Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৯
সাড়া জাগানো যত কেলেঙ্কারি
তানভীর আহমেদ
সাড়া জাগানো যত কেলেঙ্কারি
বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের সেই প্রচ্ছদে বিশ্ব মিডিয়ার বাদশাহ রুপার্ট মারডকের কেলেঙ্কারির খবর

মিডিয়া মুঘলের ফোন হ্যাকিং কেলেঙ্কারি

রুপার্ট মারডক। বিশ্ব মিডিয়ার বাদশাহ বলা হয় তাকে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তার ইশারায় চলে গোটা বিশ্বের মিডিয়া। বিশ্বজুড়ে পত্রিকা, ম্যাগাজিন, ট্যাবলয়েড, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন পত্রিকা— প্রথম সারির সবগুলোর মালিক তিনি। বলা হয়, তিনি যা যেভাবে দেখান বিশ্ব সেভাবেই সেটা দেখে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে তার একচ্ছত্র ক্ষমতা, নেই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী। তার মালিকানাধীন মিডিয়াই ব্রিটেনের উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তিদের ফোন হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে হাতিয়ে নেয় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত তথ্য। আর তাতেই ফেঁসে যান তিনি। বিক্ষোভ, আন্দোলনে ফুঁসে ওঠে সচেতন জনগণ। আদালত পর্যন্ত দৌড়ঝাঁপ করে শেষ পর্যন্ত হার মানেন। ফোনে আড়িপাতা কেলেঙ্কারিতে নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড বন্ধ করতে বাধ্য হন তিনি। ১৬৮ বছরের পুরনো ট্যাবলয়েডটি শুধু ঐতিহ্য নয়, জনপ্রিয়তায়ও শীর্ষে ছিল মিডিয়া মুঘল রুপার্ট মারডকের মালিকানাধীন সাপ্তাহিকটি।  শতাব্দীর বড় কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যান মারডক।

 

মনিকার প্রেমে ডুবেন বিল ক্লিনটন

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তার শাসনামলে নানা কারণে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় ছিলেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়নে তার মতো সমালোচিত হয়েছেন এমন উদাহরণ কমই আছে। এর কারণ আর কিছুই নয়— পরকীয়া প্রেম। একে তো সে সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট, অন্যদিকে পরকীয়া প্রেমে জড়ান প্রেসিডেন্ট ভবনে কাজ করতে আসা কলেজ গ্রাজুয়েট মনিকার সঙ্গে। সব মিলিয়ে মিডিয়া এই খবর চানাচুর বিক্রেতাদের রসালোর বক্তৃতার আদলে বিকিয়ে দেয় বিশ্বজুড়ে। ১৯৯৫ সালে মনিকা লিউনস্কির বয়স যখন ২২ বছর তখন ক্লিনটনের সঙ্গে তার গোপন প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এই প্রেমের খবর ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে থাকে মিডিয়ায়। জানা যায়, হোয়াইট হাউসে অন্তত নয়বার একান্তে কাটে তাদের প্রেম অভিসার। মনিকার সঙ্গে রোমান্সের গোপন টেপ পাওয়ার পর ফেঁসে যান তিনি।  ক্লিনটন বিষয়টি মিথ্যা দাবি করলেও মনিকা গ্র্যান্ড জুরির কাছে তার সঙ্গে ক্লিনটনের শারীরিক সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেন।

 

উডসের গোপন দুনিয়ায় শুধুই নারী

টাইগার উডস গলফ দুনিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা। কিন্তু তার নারী আসক্তির কথা অজানা নেই আর। অনেক সুন্দরী হয়েছে তার বাহুলগ্না। একের পর এক পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে কেলেঙ্কারি শব্দটা নিজের নামের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলেন তিনি।  হলিউডের তারকা মিশেল ব্রাউন ফাঁস করে দিয়েছিলেন বিশ্বের তৎকালীন এই এক নম্বর গলফারের যৌন উন্মাদনার কথা। মিশেল তথ্য-প্রমাণ দিয়ে জানিয়েছিলেন, উডসের সঙ্গে তার ছয়বার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। আর এর জন্য টাইগার তাকে ৪০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। উডসের পাঠানো অশ্লীল ফোন মেসেজ পড়ে হতবাক হয়ে যান তার ভক্তরা। আর এর জেরে সুখের সংসার ভাঙে উডসের। এখানেই থেমে থাকেনি তার প্রেম উন্মাদনা। তার সঙ্গে জড়ান বিশ্বের এক নম্বর মহিলা গলফার লিন্ডসে ভন। বছর তিনেকের সেই সম্পর্কও শেষ হয়ে যায়।  সেবারও বলা হয় নারী আসক্তিই সেই বিচ্ছেদের কারণ। তারপর তিনি মজেছেন আর্মান্ডা বয়েড নামে   সাতাশ বছর বয়সী সুন্দরী গলফারের প্রেমে।

 

লিন্ডসে লোহানের বিস্তর নষ্টামি

মার্কিন অভিনেত্রী লোহান আর কেলেঙ্কারি এই দুটি জিনিসকে আলাদা করে ভাবার অবকাশ নেই। লোহান মানেই কেলেঙ্কারি। কখনো মদ খেয়ে মধ্যরাতে রাজপথে মাতলামি, কখনো ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নগ্ন হয়ে পোজ দেওয়া, কখনো ভক্তদের সামনে অর্ধনগ্ন মেরিলিন মনরো সেজে উপস্থিত হওয়া। কখনো আবার মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে গিয়ে ভালো মানুষ হয়ে ফিরে আসার নাটক। কখনো জড়িয়ে পড়েছেন মারামারিতে। চুরি করে খেয়েছেন ধরা। জেলে গেছেন। আদালতে দৌড়াদৌড়ি চলেছে নানা অভিযোগে। মিডিয়া রীতিমতো হিমশিম খায় তার কেলেঙ্কারির পিছু ছুটতে ছুটতে। লোহান ৩ বছর বয়সেই তারকা খ্যাতি অর্জন করেন। ১০ বছর বয়স  থেকে মাদক সেবন শুরু করেন। বিখ্যাত তারকাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক থাকায় একাধিকবার আলোচিত-সমালোচিতও হয়েছেন তিনি।  নিজের বদভ্যাস সংশোধনের জন্য ১০-১২ বার পুনর্বাসন কেন্দ্রে গিয়েছেন। তবে তাকে নিয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছেন ভক্তরা। কেলেঙ্কারি ছাড়া লোহান যেন ভাবাই যায় না!

 

রাজকীয় স্ক্যান্ডাল!

প্রিন্স চার্লস আর ডায়ানার প্রণয় আর স্ক্যান্ডাল দুটোই বিশ্বজুড়ে বহুল আলোচিত ছিল। বিয়ের সাত বছর পর দুই ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম আর হ্যারির জন্মের পর তিক্ততা আসে তাদের সম্পর্কে। ১৯৮৯ সালের প্রথম দিকের ঘটনা। সাইরিল রিনান নামে এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা এবং জেন নরগোভ নামে আরেকজন মিলে গোপনে আড়ি পেতে ডায়ানা ও জেমস গিলাবের কথাবার্তা রেকর্ড করেন। গিলাব ছিলেন ডায়ানার বিয়ে-পূর্ব জীবনের বয়ফ্রেন্ড। আর এই কথোপকথনটি ওই সময়ের। ক্যাসেট প্রকাশের পর সারা বিশ্বে আলোড়ন ওঠে। কেঁপে ওঠে রাজপ্রাসাদও। অবশ্য প্রিন্স চার্লস নিজেও একেবারে অভিযোগহীন ছিলেন না। তাকে ঘিরেও কেলেঙ্কারি ছড়ায়। স্ত্রীকে পাশে রেখেই চুটিয়ে প্রেম করে যাচ্ছিলেন দীর্ঘদিনের বান্ধবী ক্যামিলা পার্কারের সঙ্গে। বিষয়টি টের পেয়েছিলেন ডায়ানা। ডায়ানা-গিলাবে সংলাপের দুই সপ্তাহ আগের ঘটনা এটি। ডায়ানা-গিলাবের সংলাপ ছিল প্রেমাকুতিতে ভরা। কিন্তু চার্লস আর ক্যামিলার কথোপকথন ছিল যৌনাবেদনে ভরপুর।  এসব নিয়ে সংসার আর চলছিল না। ১৯৯২ সালের ৯ ডিসেম্বর ডায়ানা ও চার্লস আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা থাকার ঘোষণা দেন।

 

প্রেমে কুপোকাত সারকোজি-সিসিলিয়া

ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি ফেঁসেছিলেন ব্যক্তিগত জীবন ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে। বিতর্কের আগুনে পুড়েছে তার প্রেসিডেন্সিয়াল ইমেজ। তার প্রেমকাহিনী হলিউডের সিনেমাকেও হার মানায়। ১৯৮৪ সালে এক বিখ্যাত টিভি উপস্থাপকের সঙ্গে প্রথম বিয়ে হয়েছিল সিসিলিয়ার। সেই সময় শহরের তৎকালীন মেয়র হিসেবে সারকোজিও উপস্থিত ছিলেন সিসিলিয়ার বিয়েতে। বিয়ের সেই অনুষ্ঠানেই আরেকজনের নববধূ সিসিলিয়ার প্রেমে পড়েন সারকোজি। এদিকে সারকোজি নিজেও বিয়ে করেছেন। কিন্তু অন্তরালে সারকোজি আর সিসিলিয়া পরকীয়া প্রেম তখনো জিইয়ে রেখেছিলেন। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় সত্যি সত্যিই সারকোজির টানে স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে সংসার আর দুই সন্তানকে ফেলে ঘর ছাড়েন সিসিলিয়া। আর সারকোজিও প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে সিসিলিয়াকে বিয়ে করে বসেন।  তখনই বেরিয়ে পড়ে বিবাহিত হয়েও গোপনে দুজনের চুটিয়ে প্রেমের নানা গল্প।

 

বুশের কারসাজি ফাঁস জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের নথিতে

২০০৬ সালে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ‘উইকিলিকস’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই ওয়েবসাইটে তিনি ফাঁস করে দেন রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য। শুরুর দিকে তিনি মার্কিনিদের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নানা তথ্য জনসমুখে প্রকাশ করেন। ৯/১১-এর পর মার্কিনিরা ইরাক ও আফগানিস্তানে সেনা পাঠিয়ে যুদ্ধ শুরু করে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান বলা হলেও অ্যাসাঞ্জের ফাঁস করা তথ্যে জানা যায় ইরাক ও আফগানিস্তানের ওপর আনা সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ অনেকটা সাজানো নাটকের অংশ। এ খবরে পুরো বিশ্ব নড়েচড়ে বসে। চাপে পড়ে বিশ্বের অন্যতম সামরিক ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ। বিশ্বজুড়ে মার্কিনিদের আগ্রাসী সামরিক অভিযানের বিপক্ষে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। মার্কিনিদের মিথ্যাচার দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে ওঠে। সে সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের আন্দোলন শুরু করে মার্কিন জনগণ।  দেশে দেশে বুশের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে মিডিয়া ও জনগণ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow