Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:১২
হিলারি-ট্রাম্পের উত্তপ্ত বাগ্‌যুদ্ধ
তানভীর আহমেদ
হিলারি-ট্রাম্পের উত্তপ্ত বাগ্‌যুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আসন্ন। গতকাল ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান পার্টির দুই প্রার্থী হিলারি ও ট্রাম্প প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বিতর্কে অংশ নেন।

বিপক্ষকে ব্যঙ্গ, কটাক্ষ ও ঘায়েল করার জমজমাট বাগ্যুদ্ধ প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের অস্ত্র ছিল ট্রাম্পের জাতিগত বিদ্বেষ, লিঙ্গ বৈষম্যমূলক আচরণ, মুসলমানদের নিয়ে অপমানসূচক বক্তব্য, পুতিনের প্রশংসা করে দেশ ও দেশের জনগণের নিরাপত্তা নাজুক করা এবং কর খেলাপের অভিযোগ। উল্টোদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প হিলারির ই-মেইল কেলেঙ্কারি, আইএসের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা, ওবামা প্রশাসনের বাণিজ্য চুক্তির ফাঁকফোকর, হিলারির শারীরিক সক্ষমতা ইত্যাদি নিয়ে বাক্যবাণ নিক্ষেপ করেন। বিতর্ক-পরবর্তী জরিপে শ্রোতা-দর্শকরা এগিয়ে রাখছেন হিলারিকে। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত মুখোমুখি এই বিতর্ক ১০ কোটি দর্শক টেলিভিশনে সরাসরি দেখেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিতর্ক মূল্যায়ন করে অন্তত ৫০ শতাংশ ভোটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

 

এগিয়ে হিলারি

বিতর্ক-পরবর্তী জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। তাকে সমর্থন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শতকরা ৬২ ভাগ ভোটার। অন্যদিকে শতকরা ২৭ ভাগ ভোটার বলেছেন, বিতর্কে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ভালো করেছেন। সিএনএন/ওআরসি পোল পরিচালিত জরিপে এমনটাই উঠে এসেছে। হিলারিকে কার্যকর প্রেসিডেন্ট হিসেবে  দেখতে চেয়েছেন শতকরা ৫৭ ভাগ  ভোটার। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে শতকরা ৩৫ ভাগ। শক্তিশালী নেতা হিসেবে হিলারিকে সমর্থন দিয়েছেন শতকরা ৫৬ ভাগ ভোটার। ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন শতকরা ৩৯ ভাগ। কোন প্রার্থী বেশি আন্তরিক বা যথার্থ এমন প্রশ্নের জবাবে শতকরা ৫৩ ভাগ সমর্থন দিয়েছেন হিলারিকে। শতকরা ৪০ ভাগ সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্পকে। শুধু ভালো বিতার্কিক হিসেবে হিলারিকে টপকে গেছেন ট্রাম্প।

 

এক নজরে

হফস্ট্রা ইউনিভার্সিটিতে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টা) শুরু হয় হিলারি-ট্রাম্প বিতর্ক।

বিতর্ক উপস্থাপনা করেন এনবিসি টিভির লেস্টর হল্ট।

বিতর্কে একে অন্যকে ব্যঙ্গ ও উপহাস করেছেন। বিতর্ক চলে প্রায় ৯০ মিনিট।

এই বিতর্ক টেলিভিশন ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দেখা বিতর্ক অনুষ্ঠান বলে ধারণা করা হচ্ছে। সারা বিশ্বে ১০  কোটিরও বেশি মানুষ অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখেছেন।

৮ নভেম্বর আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তার আগে এই দুই প্রধান প্রার্থী আরও দুটি  টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নেবেন।

টুইটার জানিয়েছে, বিতর্কের সময় ৬২ শতাংশ ব্যবহারকারী ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে টুইট করেছেন, হিলারির নাম লিখেছেন ৩৮ শতাংশ ব্যবহারকারী।

 

৯০ মিনিট

৯০ মিনিটের বিতর্কে কথার পিঠে কথা ঢুকিয়েছেন হিলারি ও ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চারটি পয়েন্টে দুজনেই ঘায়েল করেছেন প্রতিপক্ষকে।   তাতে হিলারির প্রতিরক্ষাবিষয়ক অভিযোগ ট্রাম্পকে কুপোকাত করেছে—

 

কেলেঙ্কারি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি ক্লিনটনের রাষ্ট্রীয় সার্ভার ব্যবহার করেন। তার মুছে ফেলা ব্যক্তিগত ৩৩ হাজার ই-মেইল প্রকাশ করলে আমিও আমার আয়কর বিবরণী প্রকাশ করব।

—ডোনাল্ড ট্রাম্প

 

লিঙ্গ সমতা

নারীরা অলস, কুকুর বলে সম্বোধন করেছেন ট্রাম্প। এমনকি কর্মজীবী নারীরা কেন গর্ভধারণ করেন, গর্ভধারণের কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটে নারীদের নিয়েও এ ধরনের কটূক্তি করেছেন তিনি।

—হিলারি ক্লিনটন

 

আইএস

যখন আইএস ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী ছিল তখন আপনি মন্ত্রী হন। আর এটি এখন ৩০টির বেশি দেশে বিস্তৃত। এখন আপনি একে থামাতে পারবেন বলে আমি মনে করি না।

—ডোনাল্ড ট্রাম্প

 

প্রতিরক্ষা

তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসা করেন। আমেরিকায় হ্যাকিং করার জন্য প্রকাশ্যে পুতিনকে তিনি যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেটা  দেখে আমি হতবাক হয়েছি। এটা  কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে যোগ্য নন।

— হিলারি ক্লিনটন

 

মুখোমুখি বিতর্কে যা বললেন তারা

হিলারি-ট্রাম্পের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জমে উঠেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের প্রথম পর্ব। যুক্তরাজ্যের  ‘দ্য মিরর’-এর চোখে সেই বিতর্কের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো এখানে—

কর্মসংস্থান ও চাকরির সুযোগ : হিলারি ক্লিনটন কর্মসংস্থান বিষয়ে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে বলেন, নারী কর্মীদের জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করবেন এবং ধনীদের জন্য কর বাড়াবেন। কিন্তু কথা ফুরোতেই ট্রাম্প এ নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, হিলারি যে কাজের সুযোগ তৈরির কথা বলেন সেটা তো মেক্সিকো ও অন্যান্য দেশ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এত রীতিমতো অষ্টম আশ্চর্য  এখন মেক্সিকোতেও শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে! ট্রাম্প বলেন, তিনি করের বোঝা লাঘব করবেন। এ ছাড়া নীতিমালা সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে তার।   আর এ জন্য হিলারিকে দায়ী করেন ট্রাম্প।

হিলারির ই-মেইল ও ট্যাক্স রিটার্ন প্রসঙ্গ : হিলারি তার ই-মেইল কেলেঙ্কারির দায় স্বীকার করে নেন। অবশ্য ধনকুবের ট্রাম্পকে তার ট্যাক্স রিটার্ন বিষয়ে চেপে ধরেন। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, আমি আমার ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশ করব যদি আমার প্রতিপক্ষ তার ‘মুছে ফেলা ৩৩ হাজার’ ই-মেইল প্রকাশ করেন। ট্রাম্প ইনকাম ট্যাক্স প্রকাশ না করায় হিলারি বলেন, তিনি ভয়াবহ কিছু গোপন করার চেষ্টা করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প তার আয়কর দেননি।

জলবায়ু পরিবর্তন : জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় রেকর্ড পরিমাণ বরফ পড়ার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রীতিমতো ধোঁকাবাজি। তার এই ভুলভাল বক্তব্যে হাসির রোল উঠে শ্রোতাদের মধ্যে।

সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা

পরিস্থিতি : হিলারির মতে, বন্দুক সহিংসতায় আফ্রিকান-আমেরিকানদের প্রাণ যাচ্ছে বেশি। পুলিশ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন এবং অস্ত্র আইন সংস্কারের মধ্য দিয়ে এ সহিংসতা রোধ করা যায়। তার মতে, বন্দুক সন্ত্রাস প্লেগ রোগের মতো সংকটময়। তবে ট্রাম্প আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আমাদের পুলিশ এখন কোনো কিছু করতে ভয় পায়। আর এ জন্য প্রচলিত ‘স্টপ অ্যান্ড ফ্রিসক’ আইনের সমালোচনা করেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণায় ‘বারাক ওবামা আমেরিকান নন’ এমনটি দাবি করে ভোট বাড়ানোর চেষ্টা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ওবামা আমেরিকান নন। ওবামার জন্মসনদ প্রকাশ করতে অক্ষম হিলারি। আর ওবামাকে আমেরিকান প্রমাণ করতে না পেরে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছেন হিলারি। উল্টোদিকে হিলারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টের জন্মপরিচয় নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেছেন ট্রাম্প। জাতিগত মিথ্যা ছড়ানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ট্রাম্পের।

অবশ্য ট্রাম্প পাল্টা আক্রমণে বলেন, ২০০৮ সালে  ডেমোক্র্যাটিক পার্টির দলীয় মনোনয়নে ওবামার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় হিলারি বলেছিলেন, তিনি তার জন্মসনদ খুঁজে পাননি।

লিঙ্গ সমতা : প্রেসিডেন্ট হিসেবে শারীরিকভাবে কে কতটা সক্ষম এমন বিতর্ক শুরু হলে সঞ্চালকের কথা কেড়ে নিয়ে হিলারি বলেন, এই লোক (ট্রাম্প) নারীদের অলস, নিচু শ্রেণির পশুতুল্য বলে মন্তব্য করেছেন। হিলারির এই মন্তব্যে কুপোকাত হন ট্রাম্প।

প্রতিরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা : প্রতিরক্ষা বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে প্রতিপক্ষের আঘাত না এলে আমেরিকা কখনই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবেন না। কখনই আলোচনার টেবিল ছেড়ে যুদ্ধ নয়। এমনকি ইরান ও উত্তর কোরিয়ার বিষয়েও তাই। তার কথার প্রতি-উত্তরে হিলারি কথার ঝড় বইয়ে দেন। হিলারি বলেন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আমেরিকা অলস বসে থাকবে না। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও দেশের জনগণের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন। উল্টো ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে বলেন, ট্রাম্প যেভাবে অতীতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গুণকীর্তন করেছেন তাতে আমেরিকার ওপর রাশিয়ার হামলার জন্য জায়গা করে দিয়েছেন। এ পর্যায়ে ট্রাম্প ‘এ কথা ভুল’ বলে চুপ মেরে যান।

সন্ত্রাস : আগের প্রসঙ্গে কথা জালে কাবু হয়ে ভিন্ন প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। সন্ত্রাস নিয়ে তিনি বলেন, হিলারি সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রমের সরকারি পরিকল্পনা ফাঁস করেছেন- এ অভিযোগ রয়েছে। তার দলীয় সরকার ওবামা প্রশাসনও এ দায় এড়াতে পারে না। তার কথায় আইএস বিরোধী অভিযানের কথাও আসে। অবশ্য হিলারি সপ্রভিত উত্তর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প বরাবরই দেশে ও দেশের বাইরে মুসলমানদের নিয়ে অপমানসূচক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এতে আইএসের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের প্রকারান্তরে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার কথা বলেন হিলারি।

শারীরিক সক্ষমতা : গত মাসে হিলারি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শারীরিকভাবে কে কতটা ফিট সে প্রসঙ্গ এলে ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট হলে হিলারিকে অনেক কঠিন সময় ও পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আমি মনে করি, তিনি সে অবস্থা সামলানোর মতো ফিট নন।

হিলারি উত্তরে বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বাইরেও তাকে বাড়তি কাজ করতে ছুটতে হচ্ছে। শারীরিক সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা ট্রাম্পের অনুচিত বলেই তিনি মনে করেন।

 

হিলারিতে কুপোকাত ট্রাম্প

বিতর্ক-পরবর্তী জরিপে হিলারি সরাসরি ট্রাম্পকে কুপোকাত করেছেন সেটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ ছাড়া ট্রাম্প বার বারই হিলারির তথ্য-উপাত্ত-যুক্তি ও পাল্টা আক্রমণে দিশাহারা হয়ে পড়েন। উপস্থিত শ্রোতাদের কাছেও ট্রাম্প বিতর্কের কিছু পর্যায়ে হাস্যরসের পাত্র হয়ে ওঠেন। হিলারির করা প্রায় প্রতিটি বাক্যতীরে বিদ্ধ হয়ে কার্যত অচল হয়ে পড়েন ট্রাম্প। উত্তর খুঁজে না পেয়ে ভুলভাল ও মিথ্যা উত্তরের আশ্রয় নেন ট্রাম্প। যে কারণে আরও বেশি বেকায়দায় পড়েন তিনি। ট্রাম্পের ভুল ও মিথ্যা তথ্য শুনে দর্শক হেসে ওঠেন। তথ্য প্রবাহের এই যুগে মিথ্যার আশ্রয় হাসির খোরাকই বটে। একটি হিসাব বলছে ট্রাম্প পুরো বিতর্কে প্রায় ১৮টি মিথ্যা কথা বলেন। অন্যদিকে হিলারি সত্য বলেছেন, ভুলের দায় স্বীকার করে শ্রোতাদের আস্থা কুড়িয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের করা অভিযোগগুলোও বর্ণবাদমূলক, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে পাল্টা উত্তর দিয়ে শ্রোতাদের কাছে হিলারি প্রশংসা কুড়ান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow