Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০৮
এত আলো কেউ দেখেনি ঢাকায়
জিন্নাতুন নূর
এত আলো কেউ দেখেনি ঢাকায়
রঙিন আলোতে সেজেছে ঢাকা। —রোহেত রাজীব

রাতের ঢাকার চিরচেনা দৃশ্য কয়েক দিন ধরে হঠাৎ বদলে গেছে। ঢাকাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।

ঝলমলে সাজে সেজেছে গোটা মহানগরী। সন্ধ্যা নামতেই বর্ণিল আলোকচ্ছটায় রূপ বদলে যায় ধূলি-ধূসর ঢাকার। নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত সাজানো হয়েছে লাল, নীল মরিচবাতি দিয়ে। বসেছে এলইডি লাইটে তৈরি আলোকোজ্জ্বল নৌকা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ও তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের রঙিন প্রতিকৃতি। এর আগে ঢাকাবাসী ঈদ, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে নগরীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আলোকসজ্জা দেখেছেন। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ গোটা দেশকে এর আগে এত দীর্ঘ সময় ধরে আলোকোজ্জ্বল সাজে কখনো সাজতে দেখেননি দেশবাসী। আগামীকাল ২২ অক্টোবর শুরু হচ্ছে দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন। আর এ উপলক্ষেই রাজধানীজুড়ে এখন রঙিন আলোর ছড়াছড়ি।

গত দুই রাত ঢাকার বিভিন্ন সড়কে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সম্মেলন উপলক্ষে মহানগরীর প্রধান সড়কের আইল্যান্ডগুলো মরিচবাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে লাগানো হয়েছে চাইনিজ লণ্ঠন। কিছু সড়কের মোড়ে বসানো হয়েছে এলইডি লাইটের বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি।

সম্মেলনের সাজসজ্জা উপকমিটি সূত্রে জানা যায়, শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে কুড়িল বিশ্বরোড, ফ্লাইওভার, বনানী ফ্লাইওভার, বনানী, মহাখালী ফ্লাইওভার হয়ে জাহাঙ্গীর গেট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, মতিঝিল, ধানমন্ডি, মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কের মোড়ে ও ফুটওভার ব্রিজের ওপর আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা দিয়েও আলোকসজ্জা করা হয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের প্রতিকৃতিও তৈরি করা হয়েছে। মরিচবাতি ছাড়াও আলোকসজ্জায় ব্যবহৃত হচ্ছে ফানুস, এলইডি লাইটিং। প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সড়কদ্বীপ, ফোয়ারা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভাস্কর্যে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোকসজ্জা করা হয়েছে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এলাকা ও সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

 

সম্মেলন উপলক্ষে সাজসজ্জার দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠান সেট-আপ সিস্টেমের স্বত্বাধিকারী ইকবাল জানান, তাদের দলটি ৮ অক্টোবর পুরো ঢাকা শহরে আলোকসজ্জার কাজ শুরু করে। এ কাজ প্রায় শেষ। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের আলোকসজ্জা রাখার প্রস্তুতি আছে। জানা যায়, এ আলোকসজ্জার অর্থ ব্যয় করছেন ক্ষমতাসীন দলটির স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।

সারা দেশ থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানান, ঢাকার বাইরে অন্য জেলা শহরগুলোকেও সম্মেলন উপলক্ষে জমকালো সাজে সাজানো হয়েছে। নিয়ন আলোয় শহরের দৃষ্টিকাড়া স্থানগুলোয় জাতির জনক, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় নৌকা প্রতীকে সাজানো হয়েছে। শহরের রাস্তাগুলোয় নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ, দেয়ালে দেয়ালে লাগানো হয়েছে রঙিন বিলবোর্ড-পোস্টার। আর এসব বিলবোর্ড-পোস্টারে তুলে ধরা হয়েছে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। আলোকসজ্জা করা হয়েছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়।

রংপুরে আলোকসজ্জা করা হয়েছে জিলা স্কুল মোড়ে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল।

রাজশাহী নগরীতে জেলা আওয়ামী লীগ নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড় সাজিয়েছে গ্রামীণ নানা দৃশ্যে।

কুমিল্লা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। কুমিল্লার দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, কান্দিরপাড় পুবালি চত্বর, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিবের কার্যালয়সহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বর্ণিল আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যানার, ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক তোরণ।

up-arrow