Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

শিরোনাম

প্রকাশ : বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ জানুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৩
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো তারকা
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো তারকা

নিজ পেশায় থেকে তারার মেলায় শামিল হতে পারেন অল্প কিছু মানুষ। ভক্তদের ভালোবাসায় তাদের হয় তো আরও কিছু করার পরিকল্পনা থাকে।

কিন্তু ছোট্ট একটি সড়ক দুর্ঘটনাই যথেষ্ট সেসব তারার দীপ্তি কেড়ে নিতে। খুব অল্প দিন আলো ছড়ানো এমনই অনেক বিশ্ব তারকা আছেন। হঠাৎ করেই চিরবিদায় নেওয়া তারকাদের নিয়ে লিখেছেন— তানিয়া জামান

 

 

প্রিন্সেস ডায়ানা [ব্রিটিশ রাজবধূ]

লেডি ডায়ানা ফ্রান্সেস স্পেন্সার ছিলেন যুবরাজ চার্লসের প্রথম স্ত্রী। ১৯৮১ সালে বিয়ের পর থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তাকে ‘হার রয়্যাল হাইনেস দ্য প্রিন্সেস অব ওয়েলস, বলে সম্বোধন করা হতো। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ডায়ানার পরিচিতি ছিল ব্যাপক। তিনি দানশীলতার জন্য খ্যাত ছিলেন। কিন্তু তার এই দাতব্য কার্যক্রম ঢাকা পড়ে যায় বিভিন্ন কেলেঙ্কারির গুজবে। এর মধ্যে ছিল ডায়ানার বিয়ে সংক্রান্ত কাহিনী। নব্বইয়ের দশকে ডায়ানার পরকীয়ার কাহিনী সারা বিশ্বের পত্র-পত্রিকায় ছড়িয়ে পড়ে। চার্লসের বিশ্বাস ঘাতকতাসহ নানা কারণে অবশেষে ১৯৯৬ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের আদেশক্রমে তাকে শুধু ডায়ানা প্রিন্সেস অব ওয়েলস বলে সম্বোধনের অনুমতি মেলে। কিন্তু চার্লসের সঙ্গে ১৯৮১ সালে বিয়ের পর থেকে ১৯৯৭ সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ডায়ানাকে বলা হতো পৃথিবীর সবচেয়ে খ্যাতিমান নারী। ফ্যাশন, সৌন্দর্য, এইডস রোগ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে তার অবদান ছিল উল্লেখ করার মতো। এ ছাড়াও ভূমি মাইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন তাকে পৃথিবী বিখ্যাত করে তোলে। জীবদ্দশায় ডায়ানাকে বলা হতো বিশ্বের সর্বাধিক আলোকচিত্রিত নারী। অবশ্য সমালোচকদের মতে, এই খ্যাতির জন্য প্রচেষ্টাই ডায়ানার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের প্যারিস শহরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় এই সুন্দরী মারা যান। যে গাড়িতে তিনি অবস্থান করছিলেন তা একটি তোরণের সঙ্গে আঘাত লাগে। আঘাত লাগা মাত্রই গাড়িটি ভেঙে চূর্ণ হয়ে যায়। ডায়ানা মারা যান ঘটনাস্থলেই। এমন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দর্শানো হয় গাড়িটির ড্রাইভারকে। তখন তিনি ছিলেন পূর্ণ মাত্রায় মাতাল। এ ছাড়া ডায়ানার গাড়িটিও ছুটছিল মাত্রাতিরিক্ত গতিতে।

 

 

স্টিভ প্রিফন্টাইনি [খেলোয়াড়]

স্টিভ রোল্যান্ড প্রিফন্টাইনি বা স্টিভ প্রিফন্টাইনি ছিলেন মধ্যম ও দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়ে একজন নামকরা খেলোয়াড়। তিনি জন্মেছিলেন আমেরিকার একটি শহরতলি গ্রামে। বাবা রেমন্ড প্রিফন্টাইনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকান সেনা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এদিকে স্টিভ প্রিফন্টাইনি খুব অল্প বয়সে ভাগ্যের উন্নয়নে কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন। আর তাই গ্রাম ছেড়ে নিউইয়র্কে পাড়ি জমান। সেখানে খেলার মাঝে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখেন স্টিভ প্রিফন্টাইনি।

ক্যারিয়ার শুরুর দিকেই তার সুনাম চড়ে তুঙ্গে। স্টিভ একবার দুই হাজার থেকে ১০ হাজার মিটার দূরত্বের সাতটি ভিন্ন ইভেন্টে দৌড়ে আমেরিকায় দৌড় ইতিহাসে রেকর্ড গড়েন। কাজটি করা অনেকের জন্য কঠিন হলেও স্টিভ তাতে সফল হন। জীবনের এই সফলতার জন্য মূল চাবি ছিল স্থির লক্ষ্য আর তার কঠোর পরিশ্রম।

নিজের কাজটিই নৈপুণ্যের সঙ্গে করার জন্য সবার কাছে খুব প্রিয় ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে পরিশ্রমী এই খেলোয়াড় ১৯৭৫ সালের মে মাসে মাত্র ২৪ বছর বয়সে গাড়ি দুর্ঘটনায় জীবন হারান।

 

 

পল ওয়াকার [হলিউড অভিনেতা]

সিনেমাপ্রেমীদের কাছে পল ওয়াকার অন্যতম পছন্দের তারকার নাম। মার্কিন চলচ্চিত্রে দাপুটে অভিনেতা হিসেবে তার পরিচিত ছিল বিশ্বজুড়ে। পল ওয়াকার ১৯৯৯ সালে ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র ভার্সিটি ব্লুস-এ অভিনয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। চারদিকে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস চলচ্চিত্রে ব্রায়ান ও’কনার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। ওয়াকার অভিনীত অন্যান্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে— এইট বিলো, ইনটু দি ব্লু, শি’জ অল দ্যাট এবং টেকার্স। তাকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলের এক্সপেডিশন গ্রেট হোয়াইট সিরিজেও দেখা গেছে। ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর ওয়াকার এবং তার বন্ধু রজার রোডস গাড়ি দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হন ভ্যালেন্সিয়া, সান্তা ক্লারিটা, ক্যালিফোর্নিয়ায়। ফিলিপাইনে হাইয়ান দুর্গতদের জন্য ওয়াকারের নিজস্ব সংস্থা ‘রিচ আউট ওয়ার্ল্ড ওয়াইড’ থেকে ফিরে আসার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আরোহী হিসেবে তিনি যে গাড়িতে অবস্থান করছিলেন হঠাৎ তার ব্রেক ফেল হয়। এমন সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি রাস্তার পাশের লাইট পোস্ট ও গাছের সঙ্গে সজোরে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এতে তাদের দুজনেরই মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৪১ বছর।

 

 

জেনি ম্যান্সফিল্ড [অভিনেত্রী]

জেনি ম্যান্সফিল্ড আমেরিকান অভিনেত্রী। তিনি চলচ্চিত্র, থিয়েটার ও টেলিভিশনে একযোগে কাজ করতেন। তার খ্যাতি ছিল বিশ্বজুড়ে। আবেদনময়ী এই অভিনেত্রী অভিনয় ছাড়াও নাইট ক্লাবের মনোরঞ্জনকারী ও গায়িকা হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ছেলেদের প্লেমেট হিসেবেও কাজ করেছেন ক্যারিয়ারের শুরুতে। সে সময় হলিউডের সেক্স সিম্বল জেনি ম্যান্সফিল্ড ভক্তদের কাছে পেয়েছেন উচ্চ কদর। রগরগে এই তারকার  রুচিশীল ও রক্ষণশীল আচরণ ছিল উল্লেখ করার মতো। সিনেমাতে নিজের ক্যারিয়ারের যাত্রাকাল থেকেই বক্স অফিসে ছিলেন হিট। কাজের মূল্যায়ন হিসেবে জেনি ম্যান্সফিল্ড জিতেছেন অসংখ্য পুরস্কার।

অভিনেত্রী হিসেবে প্রথম সারিতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন হলিউড মোশন পিকচারে খোলামেলা চরিত্রে অভিনয়ের দক্ষতা দেখিয়ে।

ক্যারিয়ারের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ১৯৬৭ সালে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান আবেদনময়ী জেনি।

 

 

আদ্রে লিন্ডভাল [বিশ্বখ্যাত মডেল]

আদ্রে ক্যাথরিন লিন্ডভাল ছিলেন একজন আমেরিকান মডেল। আদ্রে লিন্ডভাল বলেই তিনি বেশি পরিচিত। আমেরিকার অপর এক সুপার মডেল অ্যাঞ্জেল লিন্ডভালের ছোট বোন আদ্রে লিন্ডভাল। চার বোন ও এক ভাইয়ের মাঝে আদ্রে লিন্ডভাল বেড়ে উঠেছিলেন সাধারণভাবেই। মিসৌরির লি সামিট হাইস্কুল থেকে সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন ২০০১ সালে। এদিকে তার এক বোন ও ভাই কানসাস সিটিতে ফ্যাশন শোতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার প্রচেষ্টায় কাজ করতে থাকেন। বোন অ্যাঞ্জেল এরই মাঝে আইএমজিতে চুক্তিবদ্ধ হন। ভোগ ম্যাগাজিনের কভার ফটোতে তার ঠাঁই ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডে মডেল হিসেবে পরিচিত করে। বোনের এই পথচলা প্রভাবিত করে আদ্রে লিন্ডভালকেও। তিনিও পরবর্তীতে আইএমজিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ভোগ ম্যাগাজিনে কাজ শুরু করেন। বিশ্বমানের এই মডেল ভালোবাসতেন ছোটদের সঙ্গে প্রাণোচ্ছল খেলায় মেতে থাকতে। বাইক চালানোও ছিল তার খুব পছন্দের কাজ। স্বাস্থ্য সচেতন ছিলেন অনেক বেশি। কিন্তু নিজের ক্যারিয়ারের গাঁথুনি মজবুত করতে সময় পান খুব অল্প। ২০০৬ সালের ২ আগস্ট নিজের বাইকটি নিয়ে বন্ধুর সঙ্গে বের হন। দুর্ঘটনায় পথের মাঝে একটি বড় পাথরের আঘাতে তার মৃত্যু হয়।

 

 

গ্রেস কেলি [আমেরিকান অভিনেত্রী]

সোনালি ফ্রেমে বাঁধা যে মুখগুলো গত শতাব্দীর শেষার্ধে মানুষের মনে চিরকালীন সুন্দরের প্রতিমূর্তি হয়ে রয়েছে গ্রেস কেলি তার মধ্যে অন্যতম। ১৯২৯ সালে জন্মানো অনন্য এ সুন্দরীর রূপে মুগ্ধ হয়ে প্রেমে পড়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। শেষমেশ মোনাকোর প্রিন্স রেইনিয়ার-তৃতীয়কে বিয়ে করে অভিনয় ছেড়ে শুধুই রাজবধূ বনে গিয়েছিলেন গ্রেস কেলি। এর আগে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ১৯৫০ সালে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। সে সময় নিউইয়র্কের থিয়েটারের পাশাপাশি অভিনয় করেছিলেন বিভিন্ন টিভি সিরিয়ালেও। সময়টি টেলিভিশনের স্বর্ণযুগ বলে খ্যাত। গ্রেস কেলি অভিনীত ৪০টিরও বেশি সোপ পর্ব সম্প্রচার হয়েছিল সে সময়। মোগাম্বো ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি পুরোপুরি তারকার গৌরব অর্জন করেন। অসাধারণ অভিনয়ের জন্য গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জেতার পথটি সহজ হয়। পরবর্তীতে টানা পাঁচটি ছবিতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় অভিনয়ের তিনি সুযোগ পান। সে জন্য একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট অ্যাকট্রেস পুরস্কারটি জেতেন। অভিনয় জীবনকে বাদ দিয়ে তিন সন্তানের জননী হিসেবে ভালোই চলছিল এই রাজবধূর সংসার। কিন্তু ১৯৮২ সালে গাড়ি দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় গ্রেস কেলির জীবন।

 

 

জেমস ডিন [অভিনেতা]

জেমস ডিন মাত্র তিনটি সিনেমায় কাজ করেই দর্শক-ভক্তদের হৃদয় জয় করেন। সবার কাছ থেকে সুনাম কুড়ান। অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা আর সুদর্শন ইমেজ তাকে তারকা করে সহজেই। মাত্র ২৩ বছর বয়সে অকল্পনীয় খ্যাতি আর প্রতিপত্তি তার স্বাভাবিক জীবন-যাপনে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। হঠাৎ করে টাকা-পয়সা হাতে আসায় বিলাসী আচরণ করতে বাধেনি। উচ্চাভিলাষ আর অনেকটা হতাশা থেকেই সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা ডিন ‘কার রেস’-এ আসক্ত হয়ে পড়েন। সে সময় তিনি অর্ডার দিয়ে একটি উচ্চ গতিসম্পন্ন গাড়ি তৈরি করেন। গাড়িটির নাম দেন ‘লিটল বাস্টার্ড’। সে সময় গাড়িটির গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ৮৫ মাইল। মাত্র ১ সপ্তাহ গাড়ি চালানোর পর ১৯৫৫ সালে ডিন গাড়িটি নিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসেন। এতেই তার মৃত্যু হয়। গাড়িটির অভিশপ্ততা এ পর্যন্ত থেমে থাকেনি। দুর্ঘটনার পর একজন গাড়ি মেকানিক সেই গাড়ি ঠিক করতে যান। এতে তিনি নিজের দুই পা হারান। পরবর্তীতে গাড়ির পার্টস খুলে লাগানো হয় অন্য দুটি স্পোর্টস গাড়িতে। সেই গাড়ি দুটিও মারাত্মকভাবে এক্সিডেন্ট করে এবং একজন চালকের মৃত্যু হয়। তার কিছুদিন পর এক চোর সেই গাড়ির পার্টস চুরি করতে গেলে গুরুতর জখম হয়।

 

 

লিসা লোপস [সংগীতশিল্পী]

লিসা নিকোলে লোপস ছিলেন হিপহপ আমেরিকান গ্ল্যামারাস গায়িকা। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন র‌্যাপ গায়িকা, গান লেখিকা এবং বহু গানের প্রযোজনাও হয়েছে তার হাতে। পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এই গায়িকা। তিনি আমেরিকার আর্টিস্ট হিসেবে বিশ্বে বেশি পরিচিত ছিলেন। প্রচুর মানুষের হৃদকম্প হিসেবেও লিসা লোপসের নাম ছিল প্রথম সারিতে। গানে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা এই গায়িকা নব্বই দশকের শুরুতে বেশ নাম কামিয়ে নেন। র‌্যাপ গান গাওয়া, গানের ব্যাকগ্রাউন্ডে ভোকাল দেওয়া, রেকর্ডিংয়ে নির্দেশনা দেওয়া ইত্যাদি কাজে লিসা লোপসের দক্ষতার পরিচয় মেলে। এ ছাড়াও তিনি স্টেজে শো করতেন। ডিজাইন, কনসেপ্ট প্রদান, গ্রুপের ইমেজ প্রদর্শন, অ্যালবামের টাইটেল ঠিক, আর্ট-ওয়ার্ক এবং মিউজিক ভিডিও তৈরিতেও কাজ করেছেন অভিজ্ঞভাবে। ২০০২ সালে লা সিব্বা হন্ডুরাস হাইওয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় এই অদম্য প্রতিভাময়ী গায়িকার।

মাত্র ৩১ বছর বয়সে এই তারকা হারিয়ে যান চিরদিনের মতো।

 

 

জ্যাক জনসন [বক্সার]

১৯০৮ সালে টমি বার্নসকে হারিয়ে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে বিশ্ব হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন জ্যাক জনসন। সেই সময় আমেরিকায় বর্ণবিদ্ব্বেষ তুঙ্গে ছিল। ফলে আমেরিকায় দাঙ্গা লেগে ২৬ জন কৃষ্ণাঙ্গ মারা যান। তাকে বক্সিং থেকেও সাত বছরের জন্য নির্বাসিত করে দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও শান্ত হয়নি আমেরিকার বাসিন্দারা। চক্রান্তের জাল বুনে ১৯১৫ সালে আরেকটি বিশ্ব হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করে শ্বেতাঙ্গরা। সেই লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন জনসন এবং জেস উইলফ্রেড। কিন্তু বক্সিংয়ের সঙ্গে সাত বছর কোনো যোগাযোগ না থাকায় তরুণ উইলফ্রেডের কাছে সহজেই হেরে যান ৩৭ বছর বয়সী জনসন। ছিনিয়ে নেওয়া হয় তার সেই খেতাব। কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ার অপরাধে জ্যাক জনসনের বিরুদ্ধে যে চক্রান্তের জাল বোনা হয়েছিল তাতে সফল হয় শ্বেতাঙ্গরা। জীবনের এমন টানাপড়েনে থেকে জ্যাক কিছুটা উদ্ভ্রান্ত হয়ে যান। অনিয়মিত খাবার খাওয়া, মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর আসক্তি তাকে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে দেয়। ১৯৪৬ সালে ৬৮ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow