Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২১:৫৮
বিলাসবহুল যত বাড়ি
বিলাসবহুল যত বাড়ি

ধনীদের টাকা উড়ানোর জন্য জায়গার অভাব হয় না। বিলাসিতা তাদের কারও কারও জীবনের অংশ। তাই চার দেয়ালের বাড়িতেই থাকে রাজ্যের সব আয়োজন। প্রাসাদতুল্য এমন কিছু বাড়ির কথা জানাচ্ছেন—  তানভীর আহমেদ

 

এ বাড়ির জন্য ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি

দ্য ম্যানর। ধনকুবেররা মুখিয়ে থাকেন এই বাড়ির মালিকানা হাতে পাওয়ার জন্য। কারণ আর কিছুই নয়, এ বাড়ির বিলাসী আয়োজন। সঙ্গে রয়েছে ধনীদের অধিকারে থাকা সবচেয়ে বড় বাড়ির দম্ভ। প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বাড়িটি লস অ্যাঞ্জেলসের অন্যতম আকর্ষণ। এর চেয়েও অনেক দামি বাড়ি রয়েছে। কিন্তু স্থাপত্যশৈলীর জন্য অন্যান্য বাড়িকে টপকে গেছে এটি। অনেকের কাছে এটি স্পেলিং ম্যানর হিসেবেও পরিচিত। ১৯৯১ সালে ফ্রেঞ্চ স্টাইলে নির্মিত এই বাড়িটি ৪.৬ হেক্টর এলাকাসহ ৫২৪৮ বর্গমিটার রুমের আয়তন দখল করে আছে। বাড়িটিতে রয়েছে সিলভার ওয়্যার হাউস, টেনিস কোর্ট, দুটি সুইমিংপুল এবং লাক্সারিয়াস ওম্যান বিউটি কেয়ার। বাড়িটির বিশাল পরিসরের বাগান যে কাউকে চমকে দেবে। বাগানটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, তাতে ১৮ শতকের আমেজ পাওয়া যায়। বাড়িটির পার্কিং লটে ১০০টির ওপর গাড়ি ধরবে। প্রাইভেট সিনেমা হলও আছে এতে। বাড়িটি ১৫০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রির জন্য দাম চাওয়ার পর থেকেই আমেরিকার ব্যয়বহুল বাড়ির তালিকায় ওঠে আসে। অনেক খরিদ্দার ভিড় করেন। কিন্তু কপাল খোলেনি কারও-ই। ম্যানরের ভিতরটা ফ্রান্সের শাঁতো ঘরানার নির্মাণশৈলীতে বানানো একটি প্রাসাদের মতোই। এখানে ১২৩টি কক্ষ এবং ৫৬ হাজার স্কয়ার ফুটের লিভিং স্পেস, সব মিলিয়ে পুরো এস্টেটটির আয়তন ৪.৬ একর। বাড়িটি বানিয়েছিলেন এরন স্পেলিং নিজে থাকার জন্য। এর নকশা করেছিল জেমস ল্যাঞ্জেনহেইম অ্যান্ড এসোসিয়েটস। দোতলা বাড়িটি ৫১.৫ ফুট উঁচু। দ্বিতীয় তলা থেকে উঁচু পর্যন্ত আছে বিশাল ক্লজিট। বাড়িটিতে আছে একটা স্ক্রিনিং রুম, জিম, বোলিং অ্যালি, মোড়ানো বিস্ময় নিয়ে আছে তিনটি রুম, চারটি গ্যারেজ, টেনিস কোর্ট এবং সুইমিংপুল।

 

সময় কাটাতে আসেন হলিউড তারকারা

দ্য পেন্ট হাউসের মূল্য ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে এই অতিমূল্যের কারণ কী? দামি বাড়ির তালিকায় পেন্ট হাউসের নাম থাকার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হয় এটির অবস্থান। এই অ্যাপার্টমেন্টটি হাইড পার্কের পাশেই অবস্থিত, যার প্রতি ৬ হাজার স্কয়ার ফুটের জন্য গুনতে হয় ২০০ মিলিয়ন ডলার। এখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা এতটাই উন্নত যে, প্রতিটি ফ্ল্যাটে বসবাসকারীরা মোটামুটি একজন রাষ্ট্রনায়কের বাসার মতো নিরাপত্তা ভোগ করেন। এ বাড়ির ফার্নিচারগুলো পর্যন্ত সিকিউরিটির কাজ করে বলে শোনা যায়। ইরিস স্ক্যানার, বুলেটপ্রুফ জানালা। ইমারজেন্সি মুহূর্তে মান্দারিন হোটেলে যাওয়ার টানেলও পাওয়া যাবে। এ বাড়িটির কাঠামোগত সৌন্দর্য দর্শকদের মনে বিস্ময় জাগায়। হাইড পার্কে বেড়াতে আসা লোকজন একবার হলেও এ বাড়িটি দেখে যান। একটি প্রাইভেট প্রপার্টি হওয়ার পরও এটি যেন কোনো ঐতিহ্য। এই বাড়ির নিরাপত্তা কেন এত বেশি সেটা জানতে হলে বাড়িতে বসবাসকারীদের সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। এ বাড়িতে সময় কাটাতে আসেন হলিউডের নামকরা তারকারা। খেলোয়াড়, অভিনয়শিল্পী কেউ বাদ যান না। পৃথিবীর দামি বাড়ির তালিকায় নাম ওঠার পর থেকে যখন মানুষের দৃষ্টি বাড়িটির দিকে তখন থেকেই অনেকেই এটি কিনতে চেয়েছেন। তবে সায় দেয়নি মালিক পক্ষ।

 

মুকেশ আম্বানির ৪০ তলা প্রাসাদ আন্তিলা

ভারতের মুম্বাই শহরে অবস্থিত আন্তিলার দাম প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অত্যাধুনিক এই বাড়িটি ৪০ হাজার স্কয়ার ফুটের ২৭ তলা উঁচু একটি টাওয়ার। এটি ৫৭০ ফুট লম্বা। পার্কিংয়ের জন্য ছয় তলা রাখা হয়েছে। কারণ সেখানে আম্বানির ১৬৮টি গাড়ি থাকে মহাসাড়ম্বরে। নয়টি এলিভেটর ও প্রতি তলায় ব্যক্তিগত জিমনেসিয়াম আছে। বাড়িটিতে ৬০০ চাকর আছে। আটলান্টিক মহাসাগরের কল্পিত একটি দ্বীপের নামের সঙ্গে মিল রেখে বাড়িটির নাম রাখা হয়েছে। ভারতের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানির জন্যই নির্মিত এই বাড়ি। বাড়িটি নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। কেউ কেউ বাড়িটিতে হেলিপ্যাড (হেলিকপ্টার অবতরণের স্থান), সুবিশাল পাঠাগার, বিরাট খাবার ঘর, দুর্লভ মার্বেল পাথরের মেঝে, এমনকি  স্নো-রুম  রয়েছে— এমন বর্ণনাও দিয়েছেন। ২৭ তলাবিশিষ্ট এই বাড়ি নির্মাণে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ খরচ হয়েছে। বাড়ির বেশ কয়েকটি তলা স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে দুই বা তিনগুণ বেশি বড়। যে কারণে পুরো বাড়ির উচ্চতা আসলে ৪০ তলা  উঁচু ভবনের সমান। নিজের বাড়ি সম্পর্কে নীতা আম্বানি বলেন, ভারতকে হৃদয়ে ধারণ করে— এটি একটি আধুনিক বাড়ি। বাড়ির ভিতরে বহুতল গ্যারেজ (গাড়ি রাখার স্থান), একটি হলঘর, একটি স্পা, একটি  থিয়েটার, অতিথিদের জন্য বিলাসবহুল কামরা এবং বেশ কয়েকটি উঁচু বাগান রয়েছে। নীতা আম্বানি বলেন, সূর্যের আলোর প্রয়োজনীয়তার কারণে বাড়িটি শীর্ষ তলার ডানদিকে তারা থাকেন। আর বাড়িটি সাজাতে ব্যবহার করা হয়েছে দুর্লভ কাঠ, মার্বেল, মুক্তা ও কাচ (ক্রিস্টাল)।

 

ফেইরফিল্ড পন্ডস

যুক্তরাষ্ট্রের এই বাড়িটির মূল্য প্রায় ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাড়িটি সবচেয়ে বেশি আলোচনার পেছনের কারণ এর আয়তন। সুবিশাল এলাকা দখল করে আছে বাড়িটি। ইরা রেনেটের বিশাল আলিশান বাড়ি হিসিবে অনেকেই চেনে এটিকে। প্রায় ৬৩ একর এলাকাজুড়ে আমেরিকার সবচেয়ে বড় রেসিডেন্টিশিয়াল কম্পাউন্ডে বাড়িটি তৈরি করা হয়। ২৯টি বেডরুম, ৩৯টি বাথরুম, ৩টি টেনিস কোর্ট, বৌলিং এলি, ৯১ ফুট লম্বা ডাইনিং রুমের বাড়িটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

 

ড্রাকুলার ক্যাসল

ভুতুড়ে বাড়ি বলে ব্র্যান ক্যাসেল বেশ পরিচিত। কেউ বলে এটিই নাকি কুখ্যাত ড্রাকুলার হাউস। রোমানিয়ায় অবস্থিত বাড়িটির দাম ১৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রোমানিয়ান ক্যাসল নামেও এর পরিচিত রয়েছে। ১৯৮০ সালে এটিকে মিউজিয়াম করে দেওয়া হয়। রয়েছে ৫৭টি রুম, ১৬টি বেডরুম, ইউনিক এন্টিক ফার্নিচার। ১২১২ খ্রি. টিউটনিক নাইটসরা কাঠ দিয়ে এর প্রাথমিক নির্মাণ কাজ করেছিল। পরে মঙ্গোলরা এটা ধ্বংস করে ফেলে। এরপর ১৩৭৭ সালে এটি আবারও পুনর্নির্মাণ করে দকে স্যাক্সনরা।

 

আপ-ডাউনকোর্ট

ব্রিটেনের সাদা রঙের ঝকঝকে বাড়িটি বিশ্ববাসীকে অবাক করে দেয়। শুধু সাদা রঙের কারণে যে কারও হঠাৎ চোখে পড়ে বাড়িটি। নাম আপ-ডাউনকোর্ট। উইন্ডলেসহামের এই বাড়িটির মূল্য প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ৫৮ একর জমির ওপর এটি অবস্থিত। এ মেগা স্ট্রাকচারে রয়েছে ১০৩টি রুম, প্রাইভেট সিনেমা, উত্তরে বৌলি শুধু মালিকের বিনোদনের জন্য। ঘোড়াশাল, স্কোয়াশ এবং টেনিস কোর্ট, মার্বেল ড্রাইভওয়ে। প্রতিদিন সকালে পার্কিং লটে আটটি লিমোজিন দাঁড়িয়ে থাকে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow