Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৯ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৪৮
ভলিবল খেলোয়াড় হতে চেয়েছিলেন সেই গোলরক্ষক!
ভলিবল খেলোয়াড় হতে চেয়েছিলেন সেই গোলরক্ষক!
bd-pratidin

রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি ব্রাজিল আর বেলজিয়াম। দুই দলই খেলতে নামে মারমুখো ভঙ্গিতে। মাঠের মধ্যকার খেলোয়াড়দের উত্তেজনাকে ছাপিয়ে যায় গোলরক্ষকদের মানসিক চাপ। গোলপোস্ট আগলে রাখতে হয়েছে প্রতিপক্ষের তোপের মুখে। বারবার বল জড়াতে চাইছে গোলপোস্টের জালে। কিন্তু মাকড়সার মতো হাত পা মেলে প্রতিবারই প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো কঠিন কাজ করতে হয়েছে। এমন কঠিনতম কাজ সুচারুরূপে করে প্রশংসায় ভাসছেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবাউ কুরতোয়া। সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জয় তুলে নিয়েছে বেলজিয়াম। ফলে রাশিয়া সফর শেষ হয় নেইমারের দলের আর বিশ্বকাপ শিরোপার দিকে আরও একধাপ এগিয়ে যায় আসরে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বেলজিয়াম। দলের প্রসঙ্গে বেশিবার নাম আসছে তার। বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষকের ফুটবলে আসার গল্পটা অন্যরকম ছিল। ১৯৯২ সালের ১১ মে থিবাউ নিকোলাস মার্ক কুরতোয়া বেলজিয়ামের ব্রিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা থিওরি কুরতোয়া ও মা গিটা কুরতোয়া দুজনই ছিলেন বেলজিয়াম জাতীয় ভলিবল দলের খেলোয়াড়। তারা চেয়েছিলেন ছোট থেকে ভলিবলের সঙ্গেই গড়ে উঠুক থিবাউ।

কিন্তু ছেলে থিবাউ কুরতোয়া তা হতে চাননি। প্রথম দিকে জিমন্যাস্টিকস নিয়ে মেতে ছিলেন। তার বাবা-মা পাঁচ বছর বয়সে তাকে স্থানীয় একটি ভলিবল ট্রেনিং সেন্টারে নিয়ে গেলে এক সপ্তাহের মধ্যে ভলিবলে তার অনীহার কথা জানান।

এরপর থিবাউকে বেলজিয়ামের ব্রিগ শহরের ফুটবল ক্লাব ভি ভি বিলজেনে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বেলজিয়ামে ছয় বছরের নিচে বাচ্চাদের গ্রাসরুট কোচিংয়ে নিয়ম নেই। এতে কুরতোয়া ক্লাবের সামনে প্রচণ্ড কান্নাকাটি করতে থাকেন। এ দেখে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাকে ট্রেনিংয়ে নিয়ে নেয়।

প্রথম দিকে কুরতোয়াকে লেফট ব্যাক হিসেবে খেলানো হলেও তার অ্যাক্রোবেটিক মুভমেন্ট ছোট বয়সেই সবার নজরে পড়ে। তখনই তার ডাকনাম হয়ে যায় ‘অক্টোপাস’। ভি ভি বিলজেনের নার্সারি কোচ তাকে নিয়মিত গোলে খেলাতে থাকেন। দ্রুতই তিনি দেশের বড় ক্লাব জিঙ্ক ক্লাবের স্কাউটদের নজরে পড়ে যান। ২০১০-১১ মৌসুমে জিঙ্ক ক্লাব দেশের পেশাদার লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর ২০১১ সালে মাত্র আট মিলিয়ন ইউরোতে তাকে কিনে নেয় চেলসি। মাঝে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদেও খেলেন কুরতোয়া। বেলজিয়ামের জার্সিতে ২০০৯-১০ মৌসুমে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের গোলরক্ষক হিসেবে খেলেছেন কুরতোয়া। আর বেলজিয়াম জাতীয় দলের নিয়মিত গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন ২০১১ সাল থেকে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow