Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০১
ফ্রেঞ্চ রূপকথা উৎসর্গ থাই কিশোরদের
ফ্রেঞ্চ রূপকথা উৎসর্গ থাই কিশোরদের
bd-pratidin

ফ্রান্সের জয়ের সঙ্গে তারা...

রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে ফ্রান্সের। আর এই বিশাল জয়কে থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে থাকা কিশোর ফুটবল দলকে উৎসর্গ করেছেন তারকা মিডফিল্ডার পল পগবা। ১৮ দিন গুহায় আটকে থাকার পর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে তাদের। রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান শেষ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। বর্তমানে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেমিফাইনাল ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফরাসি ফুটবলাররা তাদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে থাকেন ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে। পল পগবা তখন ইনস্টাগ্রামে থাই কিশোর ফুটবল দলের একটি ছবি পোস্ট করে তাদের জয় উৎসর্গ করেন। অবিশ্বাস্য মনোবলের এই শিশুদের প্রশংসা করে লিখেন, এই জয় থাইল্যান্ডের আজকের এই নায়কদের, শাবাশ ছেলেরা, তোমরা অনেক শক্তিশালী। এরপর নিজেদের জয় নিয়ে তারকা বলেন, এই জয় অসাধারণ। তবে এখনো কাজ শেষ হয়নি। আরও কিছুটা পথ বাকি আছে। প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন বৃষ্টির কবল থেকে বাঁচতে গিয়ে থাইল্যান্ডের থ্যাম লুয়াং নামক গুহায় আটকে পড়ে ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১২ জন কিশোর। সঙ্গে ছিলেন তাদের কোচ। তারা গুহায় আশ্রয় নেওয়ার পর বানের পানি এসে পড়ায় আটকে পড়েন। টানা তিন দিন শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এই ১৩ জনের।

 

প্রাণে বেঁচে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখার সুযোগ

বিশ্বকাপ উন্মাদনার মধ্যেও সারা বিশ্বজুড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল থাইল্যান্ডে গুহায় আটকে পড়া শিশুদের গল্প। থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে থাকা ১২ খুদে ফুটবলার এবং তাদের কোচের ঘটনা ছুঁয়ে গেছে বিশ্বকাপ ফুটবলকেও। বিশ্বকাপ খেলতে আসা অনেক ফুটবলারেরই নজর ছিল এই উদ্ধারকার্যের ওপর। মঙ্গলবার সেটি শেষ হওয়ার পরে ফুটবল দুনিয়া থেকে ভেসে আসতে থাকে একের পর এক অভিনন্দন বার্তা। তবে খুদে ফুটবলারদের সম্ভবত সব চেয়ে খুশি করবে একটি খবর। ফিফা থেকে ‘ওয়াইল্ড বোরস’ ক্লাবের এই খুদে ফুটবলারদের রাশিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখার জন্য।

মঙ্গলবারই সব কজন ফুটবলার এবং তাদের কোচকে জলমগ্ন গুহা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ফিফা থেকে দিন কয়েক আগেই চিঠি পাঠানো হয়েছিল থাইল্যান্ড ফুটবল সংস্থার কাছে। যেখানে খুদে ফুটবলারদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ফাইনাল দেখার জন্য। অবশ্যই যদি ফুটবলাররা সুস্থ থাকে, তাহলেই।

উল্লেখ্য, পনেরো দিনেরও বেশি সময় থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে ছিল ১২ জন খুদে ফুটবলার এবং তাদের কোচ। অনেক চেষ্টায় তাদের উদ্ধারে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। ১২ কিশোরের একজনের জন্মদিন উদ্যাপন করতে এবং বেড়াতে তারা সেখানে গিয়েছিল। ১২ কিশোরের বয়স ১১ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তাদের সহকারী কোচ এক্কাপোল জানথাওংয়ের বয়স ২৫ বছর। তারা মু পা নামের একটি ফুটবল দলের সদস্য। থাম লুয়াং নামের দশ কিলোমিটার লম্বা গুহার ভিতরে আটকে পড়া এই ছেলেগুলোকে কখন বের করে আনা হবে, আদৌ তাদের জীবিত উদ্ধার সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল গোটা বিশ্ব। তবে সবার দোয়া বিফলে যায়নি। ঠিক মতোই বেঁচে ফিরেছে তারা। শারীরিক সুস্থতা না থাকলে হয়তো বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখা হবে না। কিন্তু ফিফা সভাপতির ভাষায়, ‘আমি আশা করছি আমাদের বলা কথাগুলো কোনো না কোনোভাবে তাদের কিছুটা হলেও শান্তি দেবে এবং এই অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার সময়ে সাহস জোগাবে। যেমনটি আমরা সবাই আশা করছি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow