Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৮
তারকাদের কারাজীবন
আবদুল কাদের
তারকাদের কারাজীবন
bd-pratidin

এরা প্রত্যেকেই রঙিন দুনিয়ার স্বপ্নের মানুষ। নিজেদের গান, অভিনয় আর নানারকম পারদর্শিতায় ভক্তের মনে এমন একটা জায়গা দখল করে রাখেন তারা যা সাধারণের ধরাছোঁয়ার অনেক বাইরে। কিন্তু বাস্তবেও ঠিক এমনটাই নিখুঁত কি হন তারা! আসলে সবার জীবন ঠিক এমনটা নয়। অনেকে খ্যাতির শিখরে থেকেও কাটাতে চান এলোমেলো জীবন। নানা অপরাধে জড়িয়ে নাম লিখিয়েছেন অপরাধের খাতায়। এমন সব সেলেবদের কথা মনে করতেই চোখের সামনে ভেসে উঠবে পর্দা কাঁপানো অসংখ্য তারকার প্রতিচ্ছবি। অনেক সেলিব্রেটি তারকার বাবা বা মা কিংবা দুজনই ছিলেন জেল খাটা আসামি। আবার অনেকেই আছেন যারা আদর্শ পরিবারে বেড়ে উঠেও খ্যাতির আদিখ্যেতায় অপরাধ জগতে পা বাড়ান। জড়িয়ে পড়েন দুর্নীতি, অপহরণ, ধর্ষণ, মাদকাসক্ত আর অবৈধ অস্ত্র মামলায়। হলিউডের ফ্যান্টাসি জগতে এমন ঘটনা অহরহই ঘটছে। এমনি এক হলিউড তারকা আমান্ডা বেনিস। বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং মাদক গ্রহণের অভিযোগে দিয়েছেন অর্থদণ্ড এবং ভোগ করেছেন কারাবাস। সেই তালিকা থেকে বাদ যাননি কানাডিয়ান পপস্টার জাস্টিন বিবারও। ভক্তদের গায়ে থুথু ফেলা, প্রতিবেশীর বাড়িতে ডিম ছোড়া, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, যুদ্ধাপরাধীদের সম্মান জানানো ছাড়াও অনেক বিতর্কিত অবস্থা তৈরি করেন। আশির দশকের দুনিয়া কাঁপানো সংগীতশিল্পী এলভিস প্রিসলি। মাত্র ৪২ বছর বয়সে ১৯৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন ‘দ্য কিং অব রক অ্যান্ড রোল’ খ্যাত মার্কিন গায়ক, সংগীত পরিচালক ও অভিনেতা এলভিস প্রিসলি। তাঁর অকালমৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও ধারণা করা হয়, মাত্রাতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন তুমুল জনপ্রিয় এই তারকা সংগীতশিল্পী। মার্কিন কমেডিয়ান অভিনেতা টিম অ্যালেনের কথাই ধরুন। মাত্র ২৫ বছর বয়সে জেলে কাটাতে হয়। অপরাধ তিনি কোকেন পাচারের সময় ধরা পড়েন। তার দুই বছরের জেল হয়। জ্যাকি চ্যানের ছেলে জেসি চ্যান। মাদক রাখার দায়ে কুংফু তারকা জ্যাকি চ্যানের ছেলেকে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে চীনের একটি আদালত। ‘হাঙ্গার গেমস’-এর ফায়ার গার্ল কাটনিসের প্রশিক্ষকের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন উডি হ্যারিসন। তার বাবা চার্লসের জীবনটা সিনেমার কাহিনীর মতো। তিনি ছিলেন পেশাদার খুনি। ১৫ বছরের জেল হয় তার। বলিউডপাড়ায়ও অপরাধী সেলিব্রেটিদের সংখ্যা কম নয়। জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ল্যাকমে’র ফ্যাশন শো-তে নিজের স্ত্রী টুইঙ্কল খান্নাকে দিয়ে প্যান্টের জিপ খোলানোর জন্য বেশ সমালোচিত হয়েছিলেন অক্ষয় কুমার। পাবলিক শো-তে এমন আচরণের জন্য জেলে যেতে হয়েছিল টুইঙ্কলকে। পরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০০৯ সালে গ্রেফতার করা হয় ‘গ্যাংস্টার’ অভিনেতা শাইনিকে। দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে হয় তাকে। মাদক পাচারের অভিযোগ ওঠে ফারদিন খানের বিরুদ্ধে। ২০০১ সালে লক্ষ টাকার কোকেনসহ ফারদিনকে গ্রেফতার করে নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) গোয়েন্দারা। ২০০৬ সালে বেলাগাম গতিতে ড্রাইভিং ও দুই পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জন আব্রাহামের বিরুদ্ধে। ৬ বছর মামলা চলার পর শেষে ১৫ দিনের জন্য জেলে যেতে হয়েছিল মেয়েদের ঘুম হারাম করা জনকে।

 

 

টি. আই

আমেরিকার জনপ্রিয় র‌্যাপার টি. আই। হিপ হপ গানের সুপারস্টার এবং হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা। যদিও এটা তার ছদ্মনাম। আসল নাম ক্লিফোর্ড হ্যারিস। জনপ্রিয়তার কারণে টি. আই নামেই সর্বাধিক পরিচিত। জনপ্রিয়তার পাশাপাশি টি. আই একজন বিতর্কিত সেলেবও বটে। মার্কিন আইন অমান্য করে অস্ত্র মামলায় জড়িয়ে পড়েন। শুধু তাই নয়, মাদক গ্রহণ করার কারণে দুইবার জেলও খাটেন টি. আই। ২০১১ সালে মাদক গ্রহণ ও সরবরাহের জন্য তার ১১ মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল। ‘দ্য ব্যাড বয়’ খ্যাত র‌্যাপার টি. আইকে কারাগারে আলাদা সুবিধা দেওয়া হতো। সম্প্রতি মে মাসে অতিরিক্ত মদ্যপান করে মাতাল হয়ে নিজের বাড়ি ভাঙার অভিযোগে তাকে থানায় হাজিরা দিতে হয়েছিল।

 

 

ড্যানি ত্রেজো

ড্যানি ত্রেজো, হলিউড টপচার্টে থাকা অভিনেতাদের একজন।   ছেলেবেলা থেকেই ডানপিটে স্বভাবের ত্রেজো। অল্প বয়সেই নির্মাণকর্মীর কাজ করেন। শিশু মাদকাশক্ত এবং অপরাধী ছিলেন ত্রেজো। ১৯৬০ সালে মাদক পাচার ও অস্ত্র ডাকাতি মামলায় জড়িয়ে পড়েন। ক্যালিফোর্নিয়া পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং আদালত তাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয়। ক্যালিফোর্নিয়া কারাগারের বাসিন্দাই বলা চলে। এসব ছাড়াও অনেকবার জেল খাটেন ত্রেজো। জেলে থাকাকালীন বক্সিং প্যাক্টিস করতেন ত্রেজো। শুধু তাই নয়, কারাগারে ত্রেজো লাইওয়েট এবং ওয়েল্টারওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়নও হন। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ত্রেজো ভালোভাবে বক্সিং প্রশিক্ষণ এবং হলিউড ক্যারিয়ার শুরু করেন।

 

 

মার্থা স্টিওয়ার্ট

মার্থা স্টিওয়ার্ট, মার্কিন উদ্যোক্তা, লেখক ও ম্যাগাজিন প্রকাশক। এর বাইরেও টিভি ব্যক্তিত্ব এবং মডেল হিসেবেও জনপ্রিয়তা রয়েছে মার্থার। বিশ্ববাসী তাকে চেনেন শূন্য থেকে কোটিপতি হওয়া সফল উদ্যোক্তা হিসেবে। অদ্ভুত আর হাসিখুশিতে কাটানো মানুষটির জীবনেও ওঠে বিতর্কের ঝড়। ২০০৪ সালে ইমক্লোন স্টক ট্রেডিং নামের একটি মামলায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগের তীর ধরে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করেন। প্রায় ৫ মাস কারাগারে থাকতে হয়েছিল তাকে। তবে অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন মার্থা। মূলত এজেন্সির কাজে বাধা দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয় বলেও তিনি রিপোর্ট করেন। কারাগারে তাকে মেঝে ও দেয়াল পরিষ্কার করতে হয়েছিল।

 

 

সঞ্জয় দত্ত

বিখ্যাত নাম তার, সঞ্জয় দত্ত। আলোচনা আর বিতর্কে কেটেছে গোটা জীবন। শুধু নিজের অভিনয় দক্ষতাতেই নয়, দারুণভাবে তার নাম প্রকাশ পেয়েছিল অন্ধকার জগতের ডন হিসেবে। ১৯৯৩ সালের অস্ত্র মামলার কারণে জেলে যান সঞ্জয়। পরের বছর ১৯৯৪ সালে একই মামলায় জামিনে থেকেও গ্রেফতার ও ২০০৬ সালে অস্ত্র মামলায় তাকে জেলে যেতে হয়। আদালত তাকে ৬ বছরের সাজা দেয়। কিন্তু সাড়ে তিন বছর সাজা ভোগ করার পর মুক্তি পান। জনপ্রিয় অভিনেতা হওয়ায় কারাগারে বাড়তি সুবিধা পেলেও কড়া নজরদারিতে থাকতে হতো তাকে। আরও একটি মজার তথ্য হলো, দুপুরে সঞ্জয় কারাগারের অভ্যন্তরীণ রেডিও কেন্দ্রে রেডিও জকি (আরজে) হিসেবে কাজ করেন।

 

 

সালমান খান

বলিউড সুপারস্টার। তবে আলোচনা আর বিতর্ক পিছু ছাড়েনি তারও। ভাইজান খ্যাত সালমানের বিরুদ্ধে তিন দফায় বিরল প্রজাতির পাঁচটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে। যার শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে একটি শুটিং ইউনিট থেকে। সেই মামলায় সালমানকে পাঁচ বছরের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে যোধপুর আদালত। তবে শেষমেশ তিনি অব্যাহতি পান ২০১৭ সালে। ২০০২ সালের আরেকটি ঘটনায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এক পথচারীকে হত্যার অভিযোগে ১৮ দিনের কারাবাস করেন। এক সময় বেকসুর খালাস পেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এখনো সেটি বিচারাধীন। এমনকী, সাবেক প্রেমিকা ঐশ্বরিয়া ও পাকিস্তানি প্রেমিকাকে হেনস্থার কারণে থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

 

 

লিন্ডসে লোহান

বিতর্কের রানী লিন্ডসে লোহান। নানা কেলেঙ্কারীতে জড়িত এই হলিউড সুপারস্টার। ১৯৯৮ সালে হলিউডে প্রবেশের পর থেকে যতটা না খ্যাতি অর্জন করেন তার চেয়ে বেশি বিতর্কিত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খোলামেলা পোশাকে ছবি দেওয়া, ঘন ঘন প্রেমিক পরিবর্তন এবং মাদকাসক্ত হয়ে নানা অঘটনের সঙ্গে জড়িত হয়ে ভীষণ সমালোচিত হন। ২০১০ সালে মাদকাসক্তের কারণে ৯০ দিনের জেল এবং জরিমানা হয় হলিউডের মিন গার্ল খ্যাত লোহানের। যদিও সেই সাজা কমিয়ে পরবর্তীতে তা ১৪ দিন ধার্য করা হয়। এসবের বাইরেও চুরির অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। লোহান নিজের জেলে যাওয়া নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে আরেকবার বিতর্ক ছড়িয়ে ছিলেন।

 

 

মণিকা বেদী

বলিউডের লাস্যময়ী সুন্দরী মণিকা বেদী। প্রায় দুই দশক ধরে বলিউড পর্দা কাঁপিয়েছেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু এক সময় নামযশ ধরে রাখতে পারেননি। মুম্বাইয়ের ডন আবু সালেমের সঙ্গে এক সময় যোগাযোগ ছিল এই অভিনেত্রীর। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে গ্যাংস্টার আবু সেলিমের সঙ্গে অপরাধ জগতে প্রবেশ এবং নানা রকম অপকর্মে জড়িত থাকার। ফলত সব হারান। ২০০২ সালে অবৈধভাবে পর্তুগালে অনুপ্রবেশের কারণে পর্তুগিজ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এর ৪ বছর পর ২০০৬ সালে জাল পাসপোর্টের জন্য আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। শুধু তাই নয়, গায়ক গুলশান কুমার হত্যার মামলার সঙ্গে তার ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ পায় পুলিশ। প্রায় ৮ বছর জেল খাটতে হয়েছিল রুপালি পর্দার এই অভিনেত্রীকে।

 

 

প্যারিস হিলটন

মার্কিন মডেল, অভিনেত্রী ও টিভি ব্যক্তিত্ব হিসেবে বেশ পরিচিত প্যারিস হিলটন। কিন্তু একের পর এক কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়ে হলিউডে সামালোচিত হন এই সুন্দরী। আর এসব অপরাধে কয়েকবার কারাবাসও করেছেন হিলটন। ২০০৭ সালে বেপোরোয়া গাড়ি চালানোর অপরাধে ৪৫ দিন লস অ্যাঞ্জেলসের একটি জেলে কাটাতে হয়েছিল তাকে।  এর ২৩ দিন পরই আরেকটি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন হিলটন। যদিও সেবার জেলে যেতে হয়নি। শুধু তাই নয়, পুলিশের সঙ্গে মিথ্যাচার এবং মাদক সেবন করে মার্কিন গণমাধ্যমে বেশ বিতর্কিতও হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। একবার তো ঋণখেলাপির অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস) তার সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সিল করে দেয়।

 

 

উইনানো রাইডার

রঙিন দুনিয়ার অন্যতম অভিনেত্রী উইনানো রাইডার। হিটস, দ্য ক্রুসিবল এবং বেটলিউসিসের মতো চলচ্চিত্রের কাজ করে সেরাদের তালিকায় উঠে আসেন। কিন্তু চুরির মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সব নামযশ মিশে যায় ধুলোয়। ২০০১ সালে এই তারকা সাক ফিফথ অ্যাভিনিউতে গ্রেফতার হন। রাইডার পোশাক চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যান। দোকানে তার সন্দেহভাজন চলাফেরায় নিরাপত্তা কর্মীদের সন্দেহ হলে তাকে তল্লাশি করায় তার কাছে কয়েকটি পোশাক পান। যা দোকানের এক মহিলা ক্রেতার কাছ থেকে ছিনতাই করা হয়েছিল। আদালতে রাইডার নিরাপত্তারক্ষীদের দ্বারা প্রহার হওয়ার দাবি করেন। আদালত অপরাধ আমলে নিয়ে তাকে ৩৬ মাসের করাদণ্ড দেয়।

 

 

ফক্সি ব্রাউন

ত্রিনিদাদিয়ান আমেরিকান র‌্যাপার ফক্সি ব্রাউন। হিপ হপ গানে একাই মাতান আমেরিকান কনসার্ট। নাম আর খ্যাতিতে অন্য সবার চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে ছিলেন এই র‌্যাপার। শুধু নামযশেই নন, অপরাধী হিসেবে কারাবাসের কারণে নানা মহলে বিতর্কিতও হয়েছিলেন। ২০০৬ সালে ফক্সির বিরুদ্ধে দুটি স্যালনে হামলার অভিযোগ তোলা হয়। সেবার আদালত তাকে ৯ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল। ফলাফল ফক্সিকে দীর্ঘ এই সময় জেলে থাকতে হয়। কিন্তু ফক্সি কারাগারে ছিলেন বহাল তবিয়তে। গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন কারাবাসের সময় তার শপিং করার গল্প। এ ছাড়াও কারাবাসের সে সময়গুলো টিভি দেখে আর গান শুনে কাটান।

 

 

টম সিজার

শোবিজ অঙ্গনের অন্যতম অভিনেতা টম সিজার। হলিউডপাড়া শুধু অভিনয় শৈলিতেই মাতাননি, প্রযোজক হিসেবেও ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন এই সুপারস্টার। আমেরিকার উনবিংশ শতকের পেসেঞ্জার ৫ এবং ট্রু রোমান্সে পর্দা কাঁপিয়েছেন হলিউডের এই অভিনেতা। কিন্তু ২০০৩ সালে বান্ধবী হেইডি ফ্লিসকে আক্রমণ করে জেলে যান। সেবার তাকে ৬ মাসের কারাভোগ করতে হয়েছিল। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মাদকাসক্ত হওয়ায় ডোপ টেস্টে সিজার ধরা পড়ে যান। ২০০৭ সালের সেই ডোপ টেস্টের সময় কর্তব্যরত কর্মকর্তার সঙ্গে ঝামেলা করে বসেন। ফলাফল আবারও জেলে বন্দী হন। এবং ১৬ মাস কারাবন্দী থাকতে হয় তাকে। এমনকী মোবাইল চুরির অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।

 

 

হিউ গ্র্যান্ট

ব্রিটিশ চলচ্চিত্র এবং হলিউড কাঁপানো অভিনেতা হিউ গ্র্যান্ট। শোবিজ অঙ্গনের  সেরা পুরস্কার গোল্ডেন গ্লোব অর্জন করা সুপারস্টার গ্র্যান্ট। শুধু সেলিব্রেটি তারকা বললে তার খ্যাতি সম্পর্কে একটু কম বলা হবে। তিনি একজন খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতাও বটে।   খ্যাতির আড়ালে যে কতটা অসঙ্গত আচরণ লুকিয়ে ছিল তা কেউ চিন্তাও করতে পারেনি। ১৯৯৫ সালে স্ত্রী হ্যারিকে জোরপূর্বক পতিতা করানোর প্রচেষ্টার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে ক্যালিফোর্নিয়ার পুলিশ। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর গ্র্যান্ট গণমাধ্যমের সামনে দুঃখ প্রকাশ করেন। নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। তিনি দাবি করেন তার ও হ্যারির সম্পর্কের সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন। তবে, গ্র্যান্ট-হ্যারি সংসার ২০০০ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল। সে বছর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

 

 

অ্যালেক্সিস নায়ার্স

আমেরিকান টিভি ব্যক্তিত্ব অ্যালেক্সিস নায়ার্স। সুন্দরী এবং আবেদনময়ী এই তারকার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি কেউ বিশ্বাসই করতে চায়নি। ২০০৯ সালের ‘ব্লিং রিং’ চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সমালোচিত হন। পল ওকেফোল্ড, অরল্যান্ডো ব্লুম, লিন্ডসে লোহান, রাচেল বিলেসন, প্যারিস হিলটন, অ্যাশলে টিসডেল এবং অডরিনা প্যাট্রিজসহ বিভিন্ন সেলিব্রেটির বাড়িতে চুরির অভিযোগ ওঠে। সে মামলায় নায়ার্সকে ১৮০ দিনের কারাভোগ করার জন্য জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু নায়ার্স কারাগারের সাধারণ প্রক্রিয়া অনুযায়ী চিকিৎসার আবেদন করেন। চিকিৎসা শেষে মাত্র ৩০ দিন করাদণ্ড শেষে মুক্তিও পান। এরপর নায়ার্স আর কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেননি।

up-arrow