Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:৪৯ অনলাইন ভার্সন
শরীয়তপুর-২
এনামুল হক শামীম জনপ্রিয়তার শীর্ষে
বিএনপিতে কোন্দল চরমে
রোকনুজ্জামান পারভেজ, শরীয়তপুর
এনামুল হক শামীম জনপ্রিয়তার শীর্ষে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া ও সখিপুর) আসনের আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিয়ে নানা কৌশলে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। বিএনপি কোন্দলে জর্জরিত। দলীয় কর্মসূচিতেও খুঁজে পাওয়া যায় না বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের। আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত শুধু একক প্রার্থী হিসেবে একবার এই আসনে জিতেছিল বিএনপি। এ ছাড়া সব নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাসদ থেকে কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। 

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে আছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, তরুণ রাজনীতিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি একেএম এনামুল হক শামীম, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযুক্ত, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী এবং আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট অধ্যক্ষ সুলতান মাহমুদ সীমন, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান এমপির ছেলে ৭১ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. খালেদ শওকত আলী।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের অনেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও দুজনের নাম জোর আলোচনায় রয়েছে। এরা হলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর ছেলে ডা. খালেদ শওকত আলী এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম। তারা উভয়ই এলাকায় দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছেন। তবে এনামুল হক শামীম পাশাপাশি নৌকার জন্য ভোট নিবেদন করছেন। তাকে দলের জন্য চট্টগ্রাম ও ঢাকাতেও ভোট চাইতে দেখা গেছে। দলীয় লিফলেট বিতরণ করেছেন শরীয়তপুরসহ ঢাকায়। আগামীতেও যেন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে পারে সেই জন্য মাঠে নেমে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি দীর্ঘদিন ধরে। তিনি যে দলের নিবেদিত প্রাণ তা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন এমনটাই জানালেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। নড়িয়ায় দলীয় কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে চলেছেন। সম্প্রতি নদী ভাঙন এলাকায় তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। ভাঙনকবলিত এলাকায় গৃহহারা পরিবারের মাঝে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার মায়ের নামে গড়া সংগঠন বেগম ফজয়তুল নেশা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ৬ হাজার পরিবারের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। ভাঙন রোধে তীররক্ষা বাঁধ প্রকল্পেও তার রয়েছে অগ্রণী ভূমিকা। তার ভাবনা শুধু নড়িয়া সখিপুর এলাকার উন্নয়ন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সখিপুর থানার ১১টি ইউনিয়নের ৯টিতে তার সমর্থিত প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নড়িয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের অধিকাংশ চেয়ারম্যানই তার সমর্থক। এ আসনের একমাত্র পৌরসভা নির্বাচনেও তার সমর্থিত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবু রাড়ী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদের সদস্যরাও তার প্যানেলের। বিগত নির্বাচনগুলোতে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নৌকার পক্ষে ব্যাপক অবদান রেখেছেন এনামুল হক শামীম। তাই ভোটের মাঠে তার আলাদা একটি ইমেজ তৈরি হয়েছে।

নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মোটা দাগে যে পাঁচটি নির্বাচন হয়েছে তার সব কটিতেই বিজয়ী হন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রবীণ রাজনীতিক কর্নেল (অব.) শওকত আলী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার এমপি হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এ নির্বাচনী এলাকায়। বিশেষ করে চলমান সংসদীয় মেয়াদে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে নড়িয়া ও সখিপুরের মানুষ। রাস্তাঘাটের বেহাল দশায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ। গ্রামীণ সড়কগুলোর দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত নড়িয়া ও সখিপুরের এ দুরবস্থার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যকেই দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ।

বর্তমান সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) শওকত আলীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, বার্ধক্যজনিত কারণে শওকত আলী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তার স্থলে তার ছেলে ডা. খালেদ শওকত আলী নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইবেন। ইতিমধ্যে ডা. খালেদ শওকত আলী ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। এদিকে, বিএনপির নেতা-কর্মীদের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না। দলীয় অধিকাংশ কর্মসূচিতেই কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জামাল শরিফ হিরু, সাবেক এমপি ডা. কেএ জলিল।

বিগত চারটি সংসদ নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ব্যবসায়ী সফিকুর রহমান কিরণ। শুধু ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছাড়া কোনো নির্বাচনে জয়ের দেখা পাননি তিনি। বর্তমানে এ আসনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। নড়িয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবু রাড়ী বলেন, এলাকার অধিকাংশ চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা এনামুল হক শামীমের পক্ষে কাজ করছেন।

সম্প্রতি নদী ভাঙন কবলিতদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন শামীম। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে আসছেন। যখন এলাকায় দুর্যোগ তখনই আমাদের পাশে দাঁড়ান এনামুল হক শামীম। ডা. খালেদ শওকত আলী বলেন, শারীরিকভাবে আব্বা অসুস্থ তাই আমি নির্বাচন করার প্রস্তুতি শুরু করেছি।

আপনার মন্তব্য

up-arrow