Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:২৮ অনলাইন ভার্সন
একদিকে লুনা, অন্যদিকে তিন চৌধুরী
শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট
একদিকে লুনা, অন্যদিকে তিন চৌধুরী

প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসন। বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর থেকে শুধু সিলেটই নয়, সারা দেশেই আলোচিত হয় এই এলাকা। ইলিয়াস আলী ছিলেন ওই আসনের দুইবারের সংসদ সদস্য। ইলিয়াস ‘নিখোঁজ’ ইস্যুটি এখনো আলোচনায় রেখেছে এ আসনটিতে। এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে আগামী নির্বাচনের ফল ঘরে তুলতে চান ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর মধ্যে চলছে ঠাণ্ডা লড়াই। আবার এ দুজনের জন্য মাথাব্যথা হিসেবে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। আগের নির্বাচনে ইলিয়াস আলীর মতো শক্তিশালী প্রার্থীকে পরাজিত করা এবং পাঁচ বছরের উন্নয়নের কারণে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পান শফিকুর রহমান চৌধুরী। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্রও দাখিল করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মহাজোটের ঝড়ে উড়ে যায় তার মনোনয়ন। দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে আসনটি ছেড়ে দিতে হয় জাতীয় পার্টিকে। আসনটি থেকে শেষ পর্যন্ত মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিলেও আগামী নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী চায় আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে মূল আলোচনায় আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। সারা বছর এলাকায় থাকার কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণের কাছে ‘চব্বিশ ঘণ্টার রাজনীতিবিদ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। গত নির্বাচনে নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পুরস্কার হিসেবে এবার তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি দেখছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। শফিকুর রহমান ছাড়াও এ আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। প্রবাসী এই নেতা বিগত কয়েক বছর ধরে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সিলেট-২ আসনে নিজের একটি বলয় তৈরির চেষ্টাও করছেন। মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রেও চলছে আনোয়ারুজ্জামানের লবিং।

তবে শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর জন্য মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। আওয়ামী লীগ যদি আগামী নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট বাঁধে, সেক্ষেত্রে সিলেট-২ আসন ফের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। আর এমনটা হলে আবারও কপাল খুলবে এহিয়ার। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা না থাকলেও বিগত নির্বাচনে বিএনপি না থাকায় এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী না দেওয়ায় জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এবার বিএনপি নির্বাচনে গেলে এবং এহিয়া মনোনয়ন পেলে তার জন্য বিজয়ী হওয়া কঠিনতর হবে।

সিলেট-২ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দৌড়ে একমাত্র ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনাই মাঠে রয়েছেন। দল থেকে তার মনোনয়নও প্রায় নিশ্চিত। নির্বাচনে বিজয়ী হতে ‘ইলিয়াস আলী নিখোঁজ’ ইস্যুই লুনার জন্য সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হবে। অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ইলিয়াস আলী। এবার ফের এই আসনটিতে নিজেদের আধিপত্য ফিরিয়ে আনতে চায় বিএনপি। তবে ইলিয়াস বিহীন গ্রুপিংয়ে বিভক্ত বিএনপির জন্য জয় মোটেও সহজ হবে না বলেই বিশ্লেষকদের অভিমত।

এদিকে, ইলিয়াস আলীর আসনটিতে তার স্ত্রী ছাড়া দলীয় আর কোনো প্রার্থী না থাকলেও এবার তাতে ভাগ বসাতে চায় ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিস। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মুনতাসির আলী গত পাঁচ বছর ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে তাকে ইতিমধ্যে দলীয় প্রার্থীও ঘোষণা করেছে।

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow