Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১৪:৫০ অনলাইন ভার্সন
নির্বাচনের মাঠে ১২ জন
মোস্তফা কাজল
নির্বাচনের মাঠে ১২ জন

রাজধানীর মিরপুর, কাফরুল, ভাসানটেক ও শেরেবাংলা নগর থানা (আংশিক) এলাকা ও ঢাকা উত্তর সিটির ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৫ আসন। এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কম পক্ষে ১২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদের এমপি হতে চান। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সাতজন, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি এবং স্বতন্ত্র একজন করে। সরেজমিন ঢাকা-১৫ এলাকা ঘুরে এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য। তারা আরও বলছেন, যে প্রার্থীর কাছে সব সমস্যা নিয়ে হাজির হতে পারব তাকেই দলমত নির্বিশেষে  ভোট দেব। এ ছাড়া যিনি রাস্তা-ঘাট, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন করবেন এমন নেতাকেই এবার এমপি হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। ঢাকা-১৫ আসনে প্রার্থী করার ভাবনা নিয়ে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ কষছে প্রতিদ্বন্দ্বী সব দল। সাংগঠনিক শক্তি আর সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডই গড়ে দেবে জয়ের ভিত্তি। এমনটাই দাবি করেছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতারা। জাতীয় সংসদের এ আসনের বর্তমান এমপি কামাল আহমেদ মজুমদার। পাশাপাশি আসনটিতে দলের মনোনয়ন পেতে তৎপর আছেন ঢাকা উত্তর সিটির ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু। বিএনপি থেকে আছেন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান। এ নেতা বর্তমানে কারাগারে আছেন। আরও আছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা  ডা. শফিকুর রহমান। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সামসুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি হেমায়েত উল্ল্যাহ ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আগাম মাঠে নেমে পড়েছেন। শুরু করেছেন গণসংযোগ।  লোকজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। চাইছেন ভোটারদের সমর্থন।

বিএনপি থেকে এ আসনে ২০০৮ সালে নির্বাচন করেছেন মরহুম উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান। তাকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কামাল আহমেদ মজুমদার। তিনি একাধারে প্রায় ১০ বছর ধরে এমপি রয়েছেন এ আসনে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে নির্বাচনী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ মাদ্রাসা ও রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন করেছি। এলাকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ করেছি। দরিদ্র ও অভাবী জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। উত্তর সিটির ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, দল থেকে মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করব। অথবা দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে কাজ করব। এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, আমি ২৪ বছর ধরে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছি। মাহমুদা বেগম কৃক বলেন, আমি কাউন্সিলর থাকার কারণে এ এলাকার উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এলাকার শিক্ষিত ও বেকার নারী ও মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করায় আমি মনোনয়ন পাব বলে প্রত্যাশা করছি। তৃণমূল থেকে উঠে আসা মাইনুল হোসেন খান নিখিল বৃহত্তর লালবাগ থানা ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে জড়ান। পরে মিরপুরে ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব  দেন। নিখিল বলেন, নির্বাচনী এলাকার রাস্তা প্রশস্তকরণ, পানি, গ্যাসসহ  দৈনন্দিন যে কোনো সমস্যা সমাধানে তিনি সর্বদা তৎপর থাকেন। বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, তৃণমূলে রাজনীতি করার সুবাদে এ আসনের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে মামুন হাসানের একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। জেলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এলাকার সর্ব সাধারণের সমস্যা সমাধানে সব সময় সচেষ্ট ছিলেন এ নেতা।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow