Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১৪:৫৪ অনলাইন ভার্সন
আওয়ামী লীগকে ৭৬ আসনের তালিকা জাতীয় পার্টির
নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগকে ৭৬ আসনের তালিকা জাতীয় পার্টির

আওয়ামী লীগের কাছে মহাজোটগতভাবে সর্বশেষ ৭৬ আসন চেয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। এর আগে ১০৫ জনের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছিল জাপা। আজকালের মধ্যে আসন নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দরকষাকষিতে ৫০টি আসন জাতীয় পার্টি পাবে বলে আশাবাদী। জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের সম্প্রতি বনানীতে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের কাছে ১০০ আসনের তালিকা দিয়েছেন তারা। এ তালিকা ধরে দরকষাকষি হবে। তবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছে তিনি শুনেছেন জোটের শরিকদের আওয়ামী লীগ ৭০টি আসন দিতে চায়। এর মধ্যে জাপা কয়টি আসন পাবে তা দুই দলের নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় চূড়ান্ত হবে। জাপা মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চয় জাপাকে নিরাশ করবেন না। তার বিবেচনা অনুযায়ী সম্মানজনক আসন দেবেন— আমরা আশাবাদী।

জানা যায়, নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসায় দ্রুত আসন সমঝোতা চায় জাতীয় পার্টি। আসন সমঝোতাসহ নির্বাচনী নানান বিষয়ে আলোচনার জন্য এরশাদের নেতৃত্বে ছোট প্রতিনিধি দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করতে চান এইচ এম এরশাদ। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দিয়েছেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় গণভবনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে সে চিঠি পৌঁছে দেন। আজকালের মধ্যে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। জানতে চাইলে সুনীল শুভ রায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, জাতীয় পার্টি মহাজোটের শরিক দল হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। নির্বাচনে আসন সমঝোতাসহ নানান বিষয়ে আলোচনার জন্য এইচ এম এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখেছেন। ওই চিঠি গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির আসন ভাগাভাগি নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা দ্রুত চান জাপা নীতিনির্ধারকরা। মোট কত আসন জাপাকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং কী কৌশলে হবে, তা ঠিক করতে দুই দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনায় বসতে চান। ৫ জানুয়ারির ১০ম সংসদ নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২১টিসহ ৩৪টি আসনে জেতা জাপার বর্তমান এমপিদের সবার মনোনয়ন নিশ্চিত নয়। বৃহত্তর রংপুরের ২১টি আসনের সাতটি এখন জাপার দখলে। এ ছাড়াও গাইবান্ধা-২, গাইবান্ধা-৩, গাইবান্ধা-৫, লালমনিরহাট-৩, রংপুর-২, রংপুর-৪ এবং রংপুর-৫ আসনে জোটের মনোনয়ন পেলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেন দলটির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপি। তিনি জানান, এককভাবে ভোট করলে এগুলোতে ভালো করা কঠিন। ঢাকার এই নেতা বলেন, এবার আর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হওয়ার সুযোগ নেই। ভোট করে জিততে হবে। গত নির্বাচনে জাপা জামালপুর-৪, ময়মনসিং-৫, ময়মনসিংহ-৭, ময়মনসিংহ-৮, কুমিল্লা-২, কুমিল্লা-৮, লক্ষ্মীপুর-২, কক্সবাজার-১, বগুড়া-২, বগুড়া-৩, বগুড়া-৬, বগুড়া-৭, ঢাকা-৪, ঢাকা-৬, চট্টগ্রাম-৯, পটুয়াখালী-১ আসনে জয়ী হয়। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করে ৩৫ ও ৩২টি আসন পায় এরশাদের জাপা। ২০০১ সালে পায় ১৪টি আসন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে জয়ী হয় ২৯টি আসনে। সেবার জাপা ৪৯ আসনে ভোটে লড়ে। এর মধ্যে ৩১টিতে আওয়ামী লীগের সমর্থন পায়। বাকি ১৮টিতে ছিল নৌকার প্রার্থী।

বিডি-প্রতিদিন/১৯ নভেম্বর, ২০১৮/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

up-arrow