Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১০:৩৯ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১০:৪০
আগামী নির্বাচনে আমরা উৎসব করব: সোহেল তাজ
শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ্:
আগামী নির্বাচনে আমরা উৎসব করব: সোহেল তাজ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রচারণায় এসে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। আওয়ামী লীগ উন্নয়নের রাজনীতি করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। দেশের মানুষ শান্তিতে বাস করতে পারেন। মঙ্গলবার গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নৌকার পক্ষের গণসংযোগে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সোহেল তাজ আরও বলেন, কাপাসিয়ার জনগণের সাথে আমার পরিবার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটা আজকে থেকে নয়। আমার বাবার সময় থেকেই। আমার বাবা ও মা সব সময়ই কাপাসিয়ার উন্নয়নের কথা ভাবতেন। এ সম্পর্ক নষ্ট হবার নয়। আমি যখন কাপাসিয়ায় আসি, তখন আবেগে আপ্লুত হয়ে যাই।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির বাইরে কখনো আমাদের পরিবার যেতে পারে না। আমিও রাজনীতির বাইরে যেতে পারিনি। কখনো সম্ভব হবে না। আমার জন্মইতো রাজনৈতিক পরিবারে। রাজনীতি আমার রক্তে মিশে আছে।

সোহেল তাজ বলেন, আমার বোন সিমিন হোসেন রিমিকে আপনারা দুইবার নির্বাচিত করেছেন। আজকে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ এসেছে। নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ হয়েছে। এটা কী, এটা উন্নয়নের ছোয়া। আজকে দেখেন সারা কাপাসিয়ায় শুধু না, সারা দেশে শান্তি আছে। আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারছি। এই সিংহশ্রীতেই ২০০১ সালের নির্বাচনের পর তান্ডব হয়েছে। সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার, নির্যাতন হয়েছে। আমাদেরকে দিশেহারা করে দিয়েছিলো। সাধারণ মানুষ এলাকায় বাস করতে পারেনি। অথচ ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নৌকায় ভোট দিয়েছেন আপনারা। আমাকেও ভোট দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেছেন। দেশে শান্তি ফিরে এসেছে। কিন্তু দেখেন আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমরা কিন্তু প্রতিশোধ নেইনি। প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ ছিলো। আমি ছিলাম বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব কী। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। এই পুলিশ নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে কী প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ ছিলো না? আমরা প্রতিশোধ নেইনি। কারণ আওয়ামী লীগ হচ্ছে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, আওয়ামী লীগ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের দল। আওয়ামী লীগ হচ্ছে উন্নয়নের দল, শান্তির দল। আমরা মারামারি, হানাহানি, কাটাকাটির দল না। আমাদের প্রতিশোধ হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় অর্জন, সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ। তাই আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে আবারও ক্ষমতা আনেন আওয়ামী লীগকে। আপনারা আমার মেজোবোন সিমিন হোসেন রিমিকে নৌকায় ভোট দিন। আগামী নির্বাচনে আমরা উৎসব করবো। আর উৎসব কেন করতে হবে জানেন, কারণ ২০২১ সালে বাংলাদেশের ৫০তম জন্মদিন। আর বাংলাদেশে জন্মদিন কার পালন করা উচিত। যে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গতাজ স্বাধীন করেছে, তাদেরইতো সেই উৎসব পালন করা উচিত। আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। কারণ আপনারা আমাকে দুই-দুইবার ভোটে নির্বাচিত করেছেন। তাই আমি আমার বোনের পাশে থেকে সেই ঋণ শোধ করার চেষ্টা করবো।

সোহেল তাজ আরও বলেন, আমার বাবা শহীদ বঙ্গতাজ তাজউদ্দীনের প্রতি বরাবরই কাপাসিয়ার জনগণ আন্তরিক। আর সেটার বহিপ্রকাশ ঘটে নির্বাচনের সময়। আজ নির্বাচন এসেছে, তাই ঘরে বসে থাকতে পারিনি। চলে এসেছি নির্বাচনী প্রচারণায়।

তাজউদ্দীন পুত্র বলেন, নির্বাচন আসলে সব সময় নেতা-কর্মীরা চাঙ্গা হয়ে যায়। কাপাসিয়ার মানুষ তাদের পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে দেখেন আমাকে। তাই তাদের এই সদস্যকে কাছে পেয়ে আরও বেশি উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, আমরা যার যার ধর্ম পালন করছি। সবায় সবাইকে শ্রদ্ধা করছি। আর এই চিন্তাটা কোত্থেকে আসছে জানেন। এটা হচ্ছে সোনার বাংলার যে স্বপ্ন, বঙ্গবন্ধু যেটা বলেছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়। আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলো একটা সোনার বাংলার। বলেছিলো একটি সোনার বাংলা গড়বেন। আর সেই সোনার বাংলার স্বপ্নটা হলো, যেখানে সকল মানুষ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, নারী, পুরুষ, ধনী, গরীব সকলে সমান অধিকারে বসবাস করবেন। কিভাবে বসবাস করবেন? নিরাপদে।

সোহেল তাজ বলেন, এই জনসভা, অনেক লোকের সমাগম দেখলে ভয় লাগে। অনেক দিনতো প্র্যাকটিস নেই। অভ্যাস নেই কথা বলার। আজকে বক্তব্য দিবো না। শুধু বলবো একটি নিরাপদ, সুন্দর আগামীর জন্য আবারও নৌকায় ভোট দিন। যাতে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। আর বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নকে লালন করে গত দশ বছর আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের যোয়ার নিয়ে এসেছে।

এ সময় নৌকার প্রচারণায় সোহেল তাজের সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তাজউদ্দীন কন্যা সিমিন হোসেন রিমি, শারমিন আহমদ রিপি, মেহজাবিন আহমদ মিমি, কাপাসিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজগর রশিদ, যুবলীগের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, ছাত্রলীগের আব্দুল কাইয়ুম ভূইয়াসহ হাজারো নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটার। গতকাল দিনব্যাপী কাপাসিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তারা।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল

আপনার মন্তব্য

up-arrow