বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটেছে। ২০২৪ সালের রাজপথের স্লোগান এখন রাষ্ট্রীয় শপথের ভাষায় রূপ নিয়েছে। আন্দোলনের আবেগ এখন প্রশাসনিক ফাইলে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে, বাজেট প্রস্তাবে। এখানেই প্রকৃত পরীক্ষা।
চব্বিশের গণ অভ্যুত্থান থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচন- এই দেড় বছরের যাত্রাপথকে কেবল রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের ধারাবাহিকতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এটি ছিল রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের পুনর্বিবেচনা, ক্ষমতার ধারণার পুনর্নির্মাণ এবং রাজনৈতিক বৈধতার নতুন পরীক্ষা। যে বাংলাদেশ ২০২৪ সালের মাঝামাঝি উত্তাল রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল, সেই বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যালট বাক্সের সামনে দাঁড়িয়ে এক নতুন সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে। এই দুই দৃশ্যের মধ্যে যে পথ, সেটি সরল ছিল না; ছিল অস্থির, দ্বিধাগ্রস্ত- কখনো আশাবাদী, কখনো আশঙ্কায় ভরা।
অভ্যুত্থান শব্দটি আমরা সহজে উচ্চারণ করি, কিন্তু তার ভিতরে থাকে বহু স্তরে জমে থাকা ক্ষোভ। ২০২৪ সালে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল হঠাৎ করে নয়। তার আগে ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক মেরুকরণ, নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক, প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ, মানবাধিকার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ, অর্থনৈতিক চাপ এবং মধ্যবিত্তের অনিশ্চয়তা। তরুণ প্রজন্ম, বিশেষত ছাত্রসমাজ, আন্দোলনের দৃশ্যমান মুখ হয়ে ওঠে। কিন্তু তাদের পেছনে ছিল বৃহত্তর এক সামাজিক স্রোত, যারা হয়তো রাস্তায় নামেনি, কিন্তু পরিবর্তনের পক্ষে মনস্তাত্ত্বিকভাবে অবস্থান নিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ আন্দোলনের গতি বাড়িয়েছে, রাষ্ট্রীয় বয়ানের বিকল্প তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক নজর আকর্ষণ করেছে।
রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া প্রথমে ছিল নিয়ন্ত্রণমূলক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এটি কেবল আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়; এটি রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্ন। যখন রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নাগরিক আস্থা ক্ষয়ে যায়, তখন বল প্রয়োগ সাময়িক নিয়ন্ত্রণ দিতে পারে, স্থায়ী সমাধান নয়। ২০২৪ সালের সেই অস্থির মাসগুলোতে বাংলাদেশ এক অদ্ভুত সীমানায় দাঁড়িয়ে ছিল। একদিকে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা, অন্যদিকে বৈধতার সংকট। অবশেষে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে এবং একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন দায়িত্ব নেয়।
অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যায়। একটি দল ক্ষমতাচ্যুত, আরেকটি দল পুনরুজ্জীবিত, নতুন কিছু রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করে। ছাত্র নেতৃত্বাধীন প্ল্যাটফর্মগুলো রাজনৈতিক দল গঠনের কথা ভাবে। পুরোনো দলগুলো নিজেদের সংস্কারের কথা বলে।
কিন্তু বাংলাদেশে দলীয় রাজনীতির বড় সমস্যা হলো অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব। নেতৃত্বের কেন্দ্রীকরণ, অর্থের প্রভাব, পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক কাঠামো-এসব যদি না বদলায়, তাহলে কেবল মুখ বদলালেও কাঠামো বদলাবে না।
অন্তর্বর্তী সময়টি ছিল প্রত্যাশা ও সংশয়ের মিশ্রণ। মানুষ দ্রুত বিচার চাইছিল, আবার একই সঙ্গে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের রূপরেখা দেখতে চাইছিল। সংস্কারের আলোচনা শুরু হয়। সংস্কার কমিশন, ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়, প্রস্তাব আসে, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। সংবিধানের বিতর্কিত ধারাগুলো সামনে আসে। নির্বাচন কমিশনের গঠন ও ভূমিকা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সবই আলোচনার কেন্দ্রে। কিন্তু আন্দোলনের ঐক্যকে শাসনের ঐক্যে রূপান্তর করা সহজ নয়। যারা একসঙ্গে রাস্তায় ছিল, তারা ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে একমত ছিল না। কেউ আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন চেয়েছে। কেউ বলেছে- দ্রুত নির্বাচনই স্থিতিশীলতার একমাত্র পথ।
এই সময়টায় একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে-অন্তর্বর্তী প্রশাসন কি কেবল সেতুবন্ধ, নাকি নিজেই একটি রাজনৈতিক সত্তা হয়ে উঠছে? ইতিহাসে আমরা দেখেছি, অনেক অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতার স্থায়িত্বের দিকে ঝুঁকেছে। বাংলাদেশে সেই আশঙ্কা নিয়ে বিতর্ক ছিল। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, প্রশাসনিক কাঠামোর গভীরে যে দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও আনুগত্য তৈরি হয়েছিল, তা দেড় বছরে পাল্টানো যায় না। ফলে সংস্কার প্রক্রিয়া কখনো দ্রুত, কখনো থমকে গেছে।
বিচারের প্রশ্নটি ছিল সবচেয়ে সংবেদনশীল। অভ্যুত্থানের আগে ও চলাকালে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার বিচার দাবি করেছিল মানুষ। সাবেক শাসকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু এখানেই সূক্ষ্ম সীমারেখা, ন্যায়বিচার ও প্রতিশোধের মধ্যে পার্থক্য। অভিযোগ গঠন ছাড়া দীর্ঘ আটক, ঢালাও আসামি করা-এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি নতুন বাংলাদেশ কি আইনের শাসনের ভিত্তিতে দাঁড়াবে, নাকি রাজনৈতিক আবেগের ভিত্তিতে? এ প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবে এটি নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
বিশ্বের বহু দেশে গণ অভ্যুত্থানের পর ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ কমিশনের মডেল অনুসৃত হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা- তারা শান্তি ও পুনর্মিলনের একটি ভারসাম্য খুঁজেছে। বাংলাদেশও কি সেই পথে হাঁটবে, নাকি দ্বন্দ্বকে দীর্ঘস্থায়ী করবে-এ প্রশ্ন এখনো খোলা।
এ প্রেক্ষাপটে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচন আসে। দীর্ঘ বিতর্ক, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ, রাজনৈতিক দরকষাকষির পর ভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান দলগুলো অংশ নেয়। যদিও আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। ভোটার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। অনিয়মের অভিযোগও ছিল। তবে সামগ্রিকভাবে নির্বাচন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক রায় দিয়েছে। সেই রায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ও তার মিত্রদের ক্ষমতায় এনেছে। বহু বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, নির্বাসন, আইনি জটিলতা পেরিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।
নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া গণতন্ত্রের শেষ নয়; এটি শুরু। প্রকৃত পরীক্ষা হবে-বিরোধী দলের জন্য রাজনৈতিক পরিসর খোলা রাখা, মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখায়।
বাংলাদেশ বহুবার দেখেছে, ক্ষমতার পালাবদল হলেও রাজনৈতিক সংস্কৃতি অপরিবর্তিত থাকে। যদি নতুন সরকার একই কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার পথে হাঁটে, তাহলে ইতিহাসের চাকা ঘুরে আবার সংকট ফিরে আসবে।
এ মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটেছে। ২০২৪ সালের রাজপথের স্লোগান এখন রাষ্ট্রীয় শপথের ভাষায় রূপ নিয়েছে। আন্দোলনের আবেগ এখন প্রশাসনিক ফাইলে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে, বাজেট প্রস্তাবে। এখানেই প্রকৃত পরীক্ষা। আন্দোলন প্রশ্ন তোলে; শাসন উত্তর দেয়। আন্দোলন ভাঙে; শাসন গড়ে। তারেক রহমানের সরকার যদি আন্দোলনের শক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে, তাহলে ২০২৪ কেবল একটি ক্ষণস্থায়ী বিস্ফোরণ নয়, একটি রূপান্তরের সূচনা হিসেবে স্মরণীয় হবে।
নতুন সরকারের সামনে তিনটি অবিচ্ছিন্ন চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। প্রথমত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী- এসব প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি। বিরোধী দল ও ভিন্নমতকে রাজনৈতিক পরিসরে জায়গা দেওয়া। তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। মুদ্রাস্ফীতি, রিজার্ভসংকট, বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা-এসব মোকাবিলা ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতি টেকসই হবে না।
অর্থনীতি এখানে কেন্দ্রীয়। অভ্যুত্থানের সময় অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ধাক্কা লেগেছিল। আন্তর্জাতিক বাজার বাংলাদেশের দিকে সতর্ক নজর রেখেছিল। এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা, বাণিজ্য সুবিধা, রপ্তানি বাজার-এসব প্রশ্ন নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ১৮০ দিনে অর্থনৈতিক বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি স্বচ্ছতা, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি দৃশ্যমান হয়, তাহলে আস্থা ফিরবে। অন্যথায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি দ্রুত বদলাচ্ছে। ভারত স্থিতিশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ প্রতিবেশী চায়। চীন তার কৌশলগত প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে আগ্রহী। পশ্চিমা দেশগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মানদণ্ড ও মানবাধিকারের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারেক রহমানের সরকারকে একাধিক শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। পররাষ্ট্রনীতির এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যই অনেক সময় অভ্যন্তরীণ স্থিতির ওপর প্রভাব ফেলে। এখানে আরেকটি গভীর প্রশ্ন সামনে আসে- বাংলাদেশের গণতন্ত্র কি ব্যক্তিনির্ভর, নাকি প্রাতিষ্ঠানিক? আমরা বহুবার দেখেছি, একজন নেতা গেলে পুরো কাঠামো নড়বড়ে হয়ে যায়। যদি প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী না হয়, তাহলে রাজনৈতিক চক্র ঘুরে আবার সংকট ফিরে আসে। ২০২৪-২৫ অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো এখাইেন- গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব ব্যক্তির ওপর নয়, প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। অভ্যুত্থানের সময় তারা সক্রিয় ছিল। এখন তাদের দায়িত্ব আরও কঠিন-ক্ষমতার সমালোচনা, স্বচ্ছতার দাবি এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে আপসহীন থাকা। নতুন সরকার যদি সমালোচনাকে সহনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করে, তাহলে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাবে। যদি না করে, তাহলে পুরোনো অভ্যাস ফিরে আসবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে আমরা দেখেছি, ক্ষমতার পালাবদল হলেও রাজনৈতিক সংস্কৃতি একই থাকে। কেন্দ্রীয়করণ, পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি, প্রশাসনিক আনুগত্য-এসব যদি না বদলায়, তাহলে অভ্যুত্থান কেবল নেতৃত্বের পরিবর্তন হিসেবে থেকে যাবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু সুযোগ নিজে থেকে পরিবর্তন আনে না; আনে সিদ্ধান্ত, নীতি ও আচরণ।
এ মুহূর্তে বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনা ও আশঙ্কা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে একটি নতুন সামাজিক চুক্তির সম্ভাবনা, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়মের ভিতরে থাকবে, বিরোধিতা শত্রুতা হবে না এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বারবার বিতর্ক উঠবে না। অন্যদিকে আছে ক্ষমতার পুনঃকেন্দ্রীকরণের ঝুঁকি, যেখানে নতুন নেতৃত্ব পুরোনো কৌশল অনুসরণ করে। ২০২৪-এর গণ অভ্যুত্থান মানুষের সাহস দেখিয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সেই সাহসকে সাংবিধানিক কাঠামোর ভিতরে নিয়ে এসেছে। এখন প্রশ্ন-এ কাঠামো কি দৃঢ় হবে? তারেক রহমানের সরকার কি প্রজ্ঞা ও সংযম দেখাবে? বিরোধীরা কি দায়িত্বশীল ভূমিকা নেবে? নাগরিক সমাজ কি সতর্ক থাকবে? ইতিহাসের এমন সময় খুব বেশি আসে না, যখন একটি দেশ একসঙ্গে অতীতকে পেছনে ফেলে ভবিষ্যৎ নির্মাণের সুযোগ পায়। বাংলাদেশ সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে। ২০২৪-এর রাস্তায় যে কণ্ঠস্বর উঠেছিল, সেটি এখন সংসদের ভিতরে প্রতিধ্বনিত হওয়ার কথা। যদি সেই প্রতিধ্বনি নীতিতে রূপ নেয়, তাহলে এই অধ্যায় হবে পুনর্জন্মের। যদি না নেয়, তাহলে ইতিহাস আবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করবে। অভ্যুত্থান ছিল আবেগের বিস্ফোরণ। নির্বাচন ছিল সেই আবেগের সাংবিধানিক অনুবাদ। এখন শাসন, সেই অনুবাদের অর্থ নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশ দেখছে, অপেক্ষা করছে এবং মনে মনে প্রশ্ন করছে-এ পরিবর্তন কি স্থায়ী হবে? নাকি এটি আরেকটি চক্রের সূচনা?
উত্তর নির্ভর করছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দূরদর্শিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সাহস এবং নাগরিকদের সতর্কতার ওপর। ২০২৪ থেকে ২০২৬-এই সংক্ষিপ্ত সময় আমাদের শিখিয়েছে, গণতন্ত্র কখনো স্থির নয়; এটি এক চলমান প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়াকে টেকসই করা এখন আমাদের সবার দায়িত্ব।
ইতিহাস অপেক্ষা করছে। জনগণও। অভ্যুত্থান সাহস দেখিয়েছে। এখন প্রয়োজন স্থিতি, প্রজ্ঞা এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসন। বাংলাদেশের ২০২৪-২৫ অধ্যায় শেষ হয়নি-এটি কেবল শুরু।
লেখক : প্রেসিডেন্ট, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ