স্কোয়াশ একটি পুষ্টিকর ও চাহিদাসম্পন্ন বিদেশি সবজি। ‘এক্স এল সুপার’ জাতের স্কোয়াশ চাষ করে কৃষকের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার এক প্রান্তিক কৃষক। স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় এ সবজি চাষে আশপাশের কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। শহর ও গ্রাম- উভয় বাজারেই স্কোয়াশের চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় এটি এখন লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের নেউলা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলামের স্কোয়াশ ক্ষেত এখন এলাকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সবুজ লতায় ছেয়ে থাকা তার জমি শুধু সফল চাষের উদাহরণই নয়, বরং গ্রামের কৃষি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও দেখাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, এই চাষ বদলে দিতে পারে গ্রামের কৃষির চিত্র ও কৃষকের জীবনের গল্প।
রফিকুল ইসলামের স্কোয়াশ ক্ষেত এখন একটি শিক্ষণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, শিক্ষার্থী ও আগ্রহী মানুষ এসে চাষ পদ্ধতি, সার ব্যবস্থাপনা এবং বাজারজাতকরণের কৌশল সম্পর্কে জানছেন।
দিনাজপুর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনের প্রদর্শনী হিসেবে রফিকুল ইসলাম তার নিজস্ব মাত্র ২০ শতক জমিতে ‘এক্স এল সুপার’ জাতের স্কোয়াশ চাষ শুরু করেন। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই তার ক্ষেতে ফলন আসতে শুরু করে। এ পর্যন্ত তিনি দুই দফায় ফসল উত্তোলন করেছেন।
বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে তার ক্ষেত থেকে গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ পিস স্কোয়াশ সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে এসব স্কোয়াশ বিক্রি করে প্রতি সপ্তাহে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে। অল্প জমিতে এমন আয় এ অঞ্চলের প্রচলিত সবজি চাষের তুলনায় ব্যতিক্রম বলে মনে করছেন অনেকেই।
রফিকুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রকল্পের সহায়তায় তিনি স্কোয়াশ চাষ শুরু করেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন এবং গাছে এখনও প্রচুর ফল রয়েছে। সামনে আরও ভালো লাভ হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি নিয়মিত সেচ, সময়মতো সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনে সতর্ক থাকার কথাও উল্লেখ করেন।
খানসামা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ. ম. জাহেদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, রফিকুল ইসলামের জমিতে ‘এক্স এল সুপার’ জাতের স্কোয়াশের ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক। উন্নত জাতের বীজ, সঠিক সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নিবিড় পরিচর্যার কারণেই এই সাফল্য এসেছে। এই জাতটি তুলনামূলকভাবে রোগ সহনশীল এবং ফলনকালও দীর্ঘ।
খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং একটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। অল্প জমিতে বেশি উৎপাদন সম্ভব- এটাই এই প্রকল্পের বড় শক্তি। স্কোয়াশের মতো উচ্চমূল্যের ফসল চাষে কৃষকরা আগ্রহী হলে পুরো অঞ্চলের সবজি উৎপাদন এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ