তথ্যপ্রযুক্তি, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও উন্নত বীজ ব্যবহার করে কৃষিতে প্রতিনিয়ত নতুন মাত্রা যোগ করছেন দিনাজপুরের বিরল উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা। তাদের উদ্যোগে এবার আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন তারা। চলতি মৌসুমে এ চাষ থেকে সাত থেকে আট লাখ টাকা লাভের আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
বিরল উপজেলার সদর ইউনিয়নের রবিপুর গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা শাহরিয়ার হোসেন, আরিফ হোসেন, মনিরুজ্জামান ও ছামিউল ইসলামের যৌথ উদ্যোগে এবার প্রায় এক একর জমিতে উইন্টারডন, ফেস্টিভ্যাল, আমেরিকান ফেস্টিভ্যালসহ চার জাতের স্ট্রবেরি চাষ করা হয়েছে। তাদের এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এই জমিতে মোট প্রায় ১৫ হাজার স্ট্রবেরি গাছ রয়েছে। সারি সারি ঝোপালো সবুজ গাছের পাতার ফাঁকে ফুটেছে সাদা ফুল, আর তার মধ্যেই উঁকি দিচ্ছে লাল, খয়েরি ও সবুজ রঙের স্ট্রবেরি। ইতোমধ্যে তারা সাড়ে আট মণ ফল সংগ্রহ করেছেন। প্রতি কেজি স্ট্রবেরি ৪০০ টাকা দরে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করছেন তারা।
উদ্যোক্তারা জানান, এভাবে তারা এই জমি থেকে প্রায় ১৫০ মণ স্ট্রবেরি সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করছেন। জমি ভাড়া, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বাদ দিয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় সাত থেকে আট লাখ টাকা লাভ হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, বিরলে স্ট্রবেরি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর স্থানীয় কৃষি অফিসের এসএসআইপি অ্যান্ড রেইনস প্রকল্পের আওতায় স্ট্রবেরি চাষে উদ্যোক্তাদের সার, কৃষি উপকরণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষি বিভাগ নিয়মিত কারিগরি সহায়তা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশে বিদেশি ফলের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে এ জেলায় স্ট্রবেরি চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল