ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮

আজকের পত্রিকা

ডাকসু নির্বাচনে বাধা কোথায়
রফিকুল ইসলাম রনি
আখতারুজ্জামান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) আখতারুজ্জামান বলেছেন, পাঁচ বছর পরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন হচ্ছে। সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যথাসময়ে হয়। এমনকি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনও নিয়মিত হচ্ছে। তাহলে নেতা তৈরির কারখানা হিসেবে খ্যাত ডাকসু নির্বাচন হতে বাধা কোথায়?

শুক্রবার সকালে গুলশানে তার নিজ বাসায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

ডাকসুর সাবেক ভিপি আখতারুজ্জামান বলেন, যথাসময়ে ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় শুধু নেতাই নয়, ডাকসু আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যেসব মেধাবী মুখ বের হয়ে আসত, তাও আর সম্ভব হচ্ছে না। ডাকসু শুধু নেতাই তৈরি করে না, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নাট্যাভিনেতা, ক্রীড়াবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবী তৈরির কারিগরও। অতীতে যারা ডাকসুর প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছিলেন, তারাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় আক্ষরিক অর্থেই নতুন প্রজন্ম একে ভুলতে বসেছে। এই শব্দের সঙ্গে তারা এখন আর পরিচিত নয়। তিনি বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ বছর পূর্তির আর মাত্র চার বছর বাকি। অনেক জ্ঞানী, গুণী, পণ্ডিত ও সফল মানুষ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন এবং কেউ কেউ পড়িয়েছেন। এই বিদ্যাপীঠটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু ’৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের প্রতিটি সামরিক শাসনবিরোধী তথা সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমতলা, বটতলা, মধুর ক্যান্টিন ও অপরাজেয় বাংলা। আখতারুজ্জামান বলেন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় কারাবরণ করতে হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কাজেই আমি নিজেও গৌরববোধ করি যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—ডাকসুর প্রত্যক্ষ ভোটে একবার জিএস (সাধারণ সম্পাদক) ও একবার ভিপি (সহসভাপতি) নির্বাচিত হয়েছিলাম। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাকসু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। তাই অবাক লাগে কেন ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে না। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়নি। মেধাবী ও জনপ্রিয়দের নেতৃত্বে আনার জন্য ডাকসু নির্বাচন এই মুহূর্তে খুব প্রয়োজন। এজন্য আমি সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, প্রতিটি ছাত্র সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে আহ্বান জানাই।

নির্বাচনকালে বিএনপির সহায়ক সরকার দাবি প্রসঙ্গে আখতারুজ্জামান উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন, মানুষ কখন সহায়তা চায়, যখন সে সবচেয়ে নিরুপায়। তার পাশে যখন কেউ থাকে না। ক্ষমতায় থাকতে লুটপাট, দুর্নীতি-হত্যা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি এবং বিরোধী দলে থাকলে আন্দোলনের নামে নিরীহ মানুষ হত্যা-আগুনসন্ত্রাস করে বিএনপি এখন রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাই তারা সহায়ক সরকার দাবি করে নিজেদের অসহায়ত্ব জাতির সামনে তুলে ধরছে। জনগণের প্রতি তাদের ন্যূনতম আস্থা নেই। সে কারণে সহায়ক সরকার চায় তারা। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই হবে। আগামীতে আবারও আওয়ামী লীগের পক্ষে জনরায় আসবে জানিয়ে সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রথম সরকারের সময় একটি কম্পিউটার কিনতে ২ লাখ টাকা লাগত। ট্যাক্স, ভ্যাট মওকুফ করে দেওয়ায় কম্পিউটারের দাম কমে গেছে। ফলে এর ব্যবহার বেড়েছে। ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে প্রযুক্তির উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। তরুণসমাজ উপলব্ধি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ ঘটে। একে আমি সংজ্ঞায়িত করি ‘তথ্যপ্রযুক্তি জনশক্তি’ হিসেবে। এই শক্তিটা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে।



এই পাতার আরো খবর