পবিত্র মাহে রমজানের স্নিগ্ধ আধ্যাত্মিক আবহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছিল এক অনন্য মিলনমেলা। সংযম, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজন করে গণ ইফতার ও দোয়া মাহফিল। এ আয়োজন শুধু একটি ইফতার অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি পরিণত হয়েছিল ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও সামাজিক সংহতির এক উজ্জ্বল প্রতীকী আসরে।
বিকেলের শেষ আলো যখন ধীরে ধীরে নরম সোনালি আভা ছড়িয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে গোধূলির আবহ তৈরি করছিল, তখন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জমতে শুরু করে ভিন্নধর্মী এক প্রাণচাঞ্চল্য। কোথাও ইফতারের প্যাকেট সাজানোর ব্যস্ততা, কোথাও আবার অতিথিদের স্বাগত জানানোর আন্তরিক আয়োজন। শিক্ষার্থীদের হাসি, শুভার্থীদের উচ্ছ্বাস আর সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক উষ্ণ ও সৌহার্দ্যময় পরিবেশ।
এই গণ ইফতারে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা, বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য ও শুভার্থীরা। একসঙ্গে বসে ইফতার করার এই আয়োজন যেন মানবিক বন্ধনে সবাইকে যুক্ত করোর প্রয়াস।
আয়োজনের একটি বিশেষ দিক ছিল দিনভর পরিশ্রম করা খেটে-খাওয়া মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ। রিকশাচালক, শ্রমজীবী ও বিভিন্ন পেশার মানুষদের হাতে ইফতার তুলে দিয়ে আয়োজকরা অনুভব করেন এক ভিন্নধর্মী তৃপ্তি। রমজানের মূল শিক্ষা- সহমর্মিতা ও দানের আনন্দ এভাবেই যেন বাস্তব রূপ লাভ করে।
গণ ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুল মমিন, সহ-সভাপতি আজিজুর হাকিম, শারমিন ও শিরিন আক্তার, যুগ্ম সম্পাদক হানিফ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতীক্ষা রানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া তাসনিম ও রওশন ইসলাম।
এছাড়াও হল প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাকিল মিয়া, ফরহাদ আহমেদ ও রিপন মিয়া। ইফতার মাহফিলে আরও অংশ নেন শুভার্থী ইমন, তারিন ইসলাম, নাবিলা খাতুন, সজিব মিয়া, ময়ূরী, আকাশ, ফাহিম ও তাসফিয়া আক্তারসহ আরও অনেকে। তাদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ইফতারের আগে মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে দেশের শান্তি, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং মানবজাতির মঙ্গল কামনা করা হয়। সেই মুহূর্তে পুরো পরিবেশ জুড়ে নেমে আসে এক গভীর আধ্যাত্মিক আবহ।
সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতীক্ষা রানী বলেন, “রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। বসুন্ধরা শুভসংঘ সেই শিক্ষাকে ধারণ করেই ক্যাম্পাসে এমন আয়োজন করেছে, যাতে সবাই মিলেমিশে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুল মমিন বলেন, “গণ ইফতার শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি মানুষের মাঝে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার সেতুবন্ধন তৈরি করে। বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় মানবকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করে যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।”
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া