মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাউয়ারগলা গ্রামের বাসিন্দা কাইয়ুম মিয়া (৫০) দীর্ঘ তিন মাস ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন। শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রথমে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ওষুধ দিলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা নিয়মিত চালানো সম্ভব হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ধীরে ধীরে কাইয়ুম মিয়ার মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে, নিজের ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাকে বাড়ির বারান্দায় শিকলবন্দি করে রাখতে বাধ্য হন স্বজনরা। বর্তমানে চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তার পরিবারের।
কাইয়ুম মিয়ার স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন, “আমরা খুব কষ্টে আছি। স্বামীর চিকিৎসা তো দূরের কথা, ঠিকমতো খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় সম্প্রতি একজন মানসিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলেও ওষুধ কেনার সামর্থ্য তাদের নেই।
এমন মানবিক পরিস্থিতির খবর পেয়ে এগিয়ে আসে বসুন্ধরা শুভসংঘ কমলগঞ্জ উপজেলা শাখা। সংগঠনের উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কণ্ঠের কমলগঞ্জ প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে সভাপতি শাব্বির এলাহী, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য সদস্যরা কাইয়ুম মিয়ার বাড়িতে যান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা কাইয়ুম মিয়ার পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তার স্ত্রীর হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। পাশাপাশি সংগঠনের আহ্বানে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আশিকুর রহমান এবং তরুণ সমাজকর্মী মোহাম্মদ ওয়াসিদও ওষুধ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত জাহানারা বেগম বলেন, “অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন পার করছি। এমন সময় বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সহযোগিতা পেয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শাব্বির এলাহী, সমাজকর্মী এম এ ওয়াসিদ, আমির মিয়া, সাইদুল ইসলাম চঞ্চল, কামাল হোসেনসহ আরও অনেকে।
স্থানীয়রা বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ