গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার চরখিরাটী গ্রামে গড়ে ওঠা বসুন্ধরা শুভসংঘ পাঠাগারটি এখন স্থানীয় জ্ঞানপিপাসু মানুষের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যস্ততায় যখন বই পড়ার অভ্যাস ক্রমেই কমে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে এই পাঠাগারটি বইপাঠে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করে আশার আলো ছড়াচ্ছে।
পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে এবং পাঠকদের উৎসাহিত করতে পাঠাগার কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের মার্চ মাসে বাছাই করা হয়েছে সেরা পাঠক। এ মাসে সেরা পাঠক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নরসিংদীর মনোহরদী পৌরসভার বাসিন্দা জি. এম. তৈমুর, একই এলাকার আবুল কাশেম এবং চালাকচর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইফ আল স্বপ্নীল।
নির্বাচিত সেরা পাঠকদের মাঝে মূল্যবান বই উপহার প্রদান করা হয়। কাঁমারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফরিদ মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চরখিরাটী ইউথ ক্লাবের সদস্য ও ফ্রিল্যান্সার মো. শাখাওয়াত হোসেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের বন্ধু মো. রকিব মিয়া, ইমরান ফকির, আরিফ হোসেন ও আপেল মাহমুদসহ অনেকে।
চরখিরাটী ইউথ ক্লাবের সদস্য ও ফ্রিল্যান্সার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। এই পাঠাগারের মাধ্যমে সমাজের ছোট-বড় সবাই বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। যারা নিয়মিত বই পড়ে, তারা স্বাভাবিকভাবেই অন্যদের তুলনায় বেশি জ্ঞানী ও মেধাবী হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, আজকের সেরা পাঠকরা পাঠাগারের নিয়মিত পাঠক। তাদের এই আগ্রহই প্রমাণ করে—সঠিক পরিবেশ পেলে তরুণ সমাজ এখনো বইমুখী হতে চায়। এমন ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘকে ধন্যবাদ জানাই এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু বই পড়ার আগ্রহই বাড়ায় না, বরং সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বসুন্ধরা শুভসংঘ পাঠাগারের এমন আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল