ভোলার চরফ্যাশনে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার চরফ্যাশনের করিমজান মহিলা মাদরাসায় ‘লজ্জা নয়, নিজেকে জানুন’ শীর্ষক এ কর্মশালা আয়োজন করে বসুন্ধরা শুভসংঘ চরফ্যাশন উপজেলা শাখা।
এতে কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং নারীদের মাসিককালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শামীমা নাসরিন। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, কৈশোরকাল মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে কিশোরীদের মধ্যে বিভ্রান্তি, লজ্জা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এ সময় সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
মাসিককালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তারা বলেন, মাসিক একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, এটি নিয়ে লজ্জা বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এ সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা পরিষ্কার স্যানিটারি ন্যাপকিন বা পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিবর্তন, ব্যবহৃত সামগ্রী নিরাপদভাবে ফেলা এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
এছাড়া কিশোরীদের পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা। বলেন, মাসিক চলাকালীন আয়রনসমৃদ্ধ খাবার যেমন শাকসবজি, ডাল, ডিম, মাছ ও ফল খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী। অনেক সময় ব্যথা বা দুর্বলতা দেখা দিলে বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হয়।
কর্মশালায় আরও বলা হয়, সমাজে এখনো টিকা ও মাসিক নিয়ে নানা কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। এসব ভুল ধারণা দূর করতে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার্থীদের খোলামেলা পরিবেশে প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
শিক্ষকরা বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন সচেতনতামূলক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে। এতে তারা স্বাস্থ্য বিষয়ে বাস্তবধর্মী জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, কর্মশালাটি তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়েছে। মাসিক, প্রজনন স্বাস্থ্য ও টিকা নিয়ে আগে অনেক বিষয়ে দ্বিধা থাকলেও এখন তারা বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারছে। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের গুরুত্ব তারা বুঝতে পেরেছে।
উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মারিয়া বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে কিশোরীদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া গেলে তারা নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হবে। এ ধরনের আয়োজনের মূল লক্ষ্যই হলো, কিশোরীদের স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা।
বিডি-প্রতিদিন/এমই