যশোরের মনিরামপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে এক অনুপ্রেরণামূলক পাঠচক্র ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার পৌর শহরের তাহেরপুর এলাকার রানু কুঠির প্রাঙ্গণে বসুন্ধরা শুভসংঘ মনিরামপুর উপজেলা শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। সাহিত্যচর্চা, জ্ঞান বিনিময় এবং সৃজনশীলতার বিকাশে এই আড্ডা নতুন মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এস. এম. হাফিজুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকাশ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ মনিরামপুর উপজেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যাপক গৌতম রায়।
পাঠচক্র ও আড্ডায় অংশ নেন উপদেষ্টা মাস্টার মো. মনিরুজ্জামান, সহসভাপতি ডা. হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোকলেচুর রহমান, শিক্ষক প্রবীর সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক শাহীন আলম, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মাসুদ রানা, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক প্রভাষক ফজলুর রহমান, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক নার্গীস আক্তার,কঙ্কন চক্রবর্তী, জয়ন্ত, তাহসীন, নিপুন, রোহান, আপন, নয়ন, দৈনিক কালের কণ্ঠের মনিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি অধ্যাপক মোহাম্মদ বাবুল আকতারসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
পাঠচক্র পর্বে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন-এর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ' যে জীবন আমার ছিল 'থেকে অংশবিশেষ পাঠ করা হয়। বইটিতে লেখকের সাহিত্যজীবনের অজানা গল্প, সংগ্রাম এবং সৃজনশীল পথচলার নানা দিক উঠে এসেছে, যা উপস্থিতদের মধ্যে গভীর আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা জাগায়।
সাহিত্য-সাংস্কৃতিক পর্ব ছিল অনুষ্ঠানটির অন্যতম আকর্ষণ। এতে সংগঠনের সভাপতি এস. এম. হাফিজুর রহমান ও উপদেষ্টা গৌতম রায় গান পরিবেশন করেন। এছাড়া সদস্য কঙ্কন চক্রবর্তীসহ অন্যান্যরা কবিতা আবৃত্তি করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
প্রধান আলোচক অধ্যাপক গৌতম রায় বলেন, আজকের তরুণদের হাতে স্মার্টফোন আছে, কিন্তু সবসময় স্মার্ট চিন্তা থাকে না। পাঠচক্র সেই চিন্তাকে শানিত করে। একটি ভালো বই একজন মানুষকে শুধু জ্ঞানী করে না, তাকে সচেতন নাগরিক হিসেবেও গড়ে তোলে। আমরা যদি প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি, তাহলে ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্র— তিনটিই উপকৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, সাহিত্য আমাদের আত্মার খাদ্য। প্রযুক্তির এই যুগে আমরা যদি বই থেকে দূরে সরে যাই, তাহলে চিন্তার গভীরতাও হারিয়ে ফেলব। তাই বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়।
সভাপতির বক্তব্যে এস. এম. হাফিজুর রহমান বলেন, পাঠচক্র শুধু বই পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের চিন্তাশক্তিকে জাগ্রত করে, মূল্যবোধ গড়ে তোলে এবং একটি মানবিক সমাজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান প্রজন্মকে মাদক, অপসংস্কৃতি ও নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে রাখতে সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সৃজনশীলতা একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং সমাজে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক চিন্তার আলো ছড়িয়ে দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ