কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় "হাম প্রতিরোধে সচেতনতা ও করণীয়” শীর্ষক সভার আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সময়মতো টিকাদান এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে নাঙ্গলকোট জামান্স কিন্ডারগার্ডেন মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ নাঙ্গলকোট উপজেলা শাখার সভাপতি একেএম মারুফ হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন নাঙ্গলকোট জামান্স কিন্ডারগার্ডেনের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ও নাঙ্গলকোট পৌরসভার সাবেক মেয়র একেএম মনিরুজ্জামান খান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ নাঙ্গলকোট উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম, নাঙ্গলকোট জামান্স কিন্ডারগার্ডেনের প্রধান শিক্ষক রুবিনা আক্তার, সহকারী শিক্ষক দিলরুবা বদরুন্নাহার, রোকেয়া বেগম মজুমদার, নাসরিন সুলতানা, নাসির উদ্দিন, আব্দুল হালিম, রহিমা আক্তার, আরজু আক্তার, মর্জিনা আক্তার, রবিউল হক, শেখ রাসেল ও সাংবাদিক রাশেদ হোসাইনসহ শুভসংঘের অন্যান্য সদস্যরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে একেএম মনিরুজ্জামান খান বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে। টিকাদানের মাধ্যমে হাম প্রতিরোধ সম্ভব। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেও এ রোগের ঝুঁকি কমানো যায়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় হাম রোগের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। তাই শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবহেলা না করে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সরকারি টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সুস্থ সমাজ গঠনে সবাইকে সচেতনতার পাশাপাশি অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে অনেক অভিভাবক শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন নন। অনেক সময় সময়মতো টিকা না দেওয়া, পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং অসচেতনতার কারণে শিশুরা হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও একযোগে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, শুধু চিকিৎসা নয়- সচেতনতাই হতে পারে হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে বসুন্ধরা শুভসংঘ নাঙ্গলকোট শাখা বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ