নদীমাতৃক বাংলাদেশের জনজীবনের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। সুরমা, কুশিয়ারা ও অসংখ্য ছোট-বড় নদ-নদী যেমন এ দেশের প্রকৃতি, কৃষি ও অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও জলাবদ্ধতার মাধ্যমে ডেকে আনে নানা দুর্ভোগও।
বিশেষ করে বন্যা-পরবর্তী সময়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় শিশু থেকে বৃদ্ধ-সব বয়সী মানুষ।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
বুধবার বিকেলে উপজেলার আটগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় অংশ নেয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী ছিদ্দিকুর রহমান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাজল, প্রধান শিক্ষক হারিচুন নাহার ও বসুন্ধরা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ সাইফুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পুরো আয়োজন জুড়ে শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির বিষয়টি ছিল সবচেয়ে বেশি গুরুত্ববহ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বন্যা ও দূষিত পানির কারণে প্রতি বছর দেশে অসংখ্য মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হন। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে এসব রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। মানুষ সচেতন হওয়ার ফলেই দেশে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ আগের তুলনায় অনেক কমেছে। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় আট লাখ ৪২ হাজার মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করে। তাই নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারিচুন নাহার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে স্কুলে আসতে হবে। সবসময় নিরাপদ পানি পান করতে হবে এবং খাবারের আগে ও পরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান জানান, আজকের সভায় শিশুদের মাঝে হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম, বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণ, খোলা জায়গায় মলত্যাগের ক্ষতিকর দিক এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিবার থেকে শুরু করে বিদ্যালয় ও সমাজ- সব জায়গায় সচেতনতা তৈরি করতে পারলেই পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেক কমে আসবে। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করবে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ