ভোলায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জেলা শাখার প্রাণবন্ত এই আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে নিজেদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা উপস্থাপন করেন।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজনে শিক্ষার্থীরা মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, দেশের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও বাংলাদেশের সৌন্দর্য নিয়ে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন এবং কবিতা আবৃত্তি করেন। শিক্ষার্থীদের আবেগঘন পরিবেশনা উপস্থিত দর্শক, শিক্ষক ও অতিথিদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, 'এ ধরনের প্রতিযোগিতা তাদের শুধু সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহিত করে না, বরং দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার আগ্রহও বাড়ায়।' তারা ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন নিয়মিত করার দাবি জানান।
বিদ্যালয়য়ের শিক্ষকরা বলেন, 'বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশীয় সংস্কৃতি, সাহিত্য ও দেশপ্রেমের চর্চা বাড়াতে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা করায় বসুন্ধরা শুভসংঘকে আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একটি জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই। দেশাত্মবোধক গান ও কবিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দেশপ্রেম আরও দৃঢ়ভাবে গড়ে ওঠে।'
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি মো. শাফায়াত হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মীর আবিদ হোসেন, সহ-সভাপতি আশরাফুন নাহার, মো. জাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জামিলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় দত্ত, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুর রহমান, অর্থসম্পাদক সাফা ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক নুর ফাতেমা, কর্ম ও পরিকল্পনা সম্পাদক ইসরাত জাহান নুহা, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক বিজয় আহমেদসহ অন্যান্য সদস্যরা।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. শাফায়াত হোসেন(সিয়াম) বলেন, 'বর্তমান প্রজন্মকে শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তাদের সাংস্কৃতিক, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হতে হবে। একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত বিকাশ তখনই সম্ভব, যখন সে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি, আবৃত্তি, সংগীত, বিতর্ক ও বিভিন্নসহ-শিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। এসব কার্যক্রম তরুণদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করে এবং তাদের সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।'
তিনি আরও বলেন, 'সহ-শিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে তারা সমাজ, দেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও সচেতন হয়ে ওঠে এবং ইতিবাচক চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ হয়। একটি সুন্দর, মানবিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের এমন কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি।'
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও গর্ববোধ। কেউ কবিতার ছন্দে তুলে ধরেন বাংলার প্রকৃতি, কেউবা গানে প্রকাশ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও সংগ্রামের ইতিহাস। তাদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান বলেন, 'শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পর্কে আরও সচেতন হয়ে উঠবে। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আরও শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।'
দেশাত্মবোধক গান প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে আনিকা ইসলাম, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে নাফিসা তাবাচ্ছুম, তৃতীয় স্থান অধিকার করে হাসিব ইসলাম। অন্যদিকে কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে মো. আশিকুর রহমান, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে নাফিয়া, তৃতীয় স্থান অধিকার করে ফজলে রাব্বি।
বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকেও উৎসাহমূলক সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/আরকে