ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সচেতনতামূলক কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) সকালে উপজেলার দক্ষিণ মনিকুড়া গ্রামে অবস্থিত সংগঠনটির স্কুল প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সংগঠনের সভাপতি জিহাদুজ্জামান শিহাবের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠ উপজেলা প্রতিনিধি মাজহারুল ইসলাম মিশু’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হালুয়াঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, হালুয়াঘাট থানার(ওসি) মো. ফেরদৌস আলম, হালুয়াঘাট উপজেলা শাখা শুভসংঘের উপদেষ্টা রেজাউল করিম, সদস্য দেওয়ান তাহাবাতুল উর্বশিসহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এর আগে অতিথিরা শুভসংঘ স্কুল পরিদর্শন করেন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হালুয়াঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, যারা মাদক সেবন করে তাদের মস্তিষ্কের বিবেকবোধ ও বিচারশক্তির ওপর অপরাপর সাধারণ জিনিসমূহ থেকে ভিন্নতর এমন সব নতুন নতুন প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সে বাস্তবতাকে ভুলে যায় এবং অবান্তর বিষয়ের কল্পনায় বিভোর থাকে। যে ব্যক্তি মাদক ব্যবহার করে, তার সঙ্গে এসবই ঘটতে থাকে। এসব ছাড়াও মাদক শারীরিক অবক্ষয়ের জন্ম দেয়, স্নায়ুবিক অস্থিরতা ও বিপর্যয় নিয়ে আসে, স্বাস্থ্যহানী ঘটায়। এর চেয়েও বড় কথা হল, মাদকদ্রব্য মনস্তাত্বিক দুর্বলতা, গাঠনিক শক্তিহীনতা, ইচ্ছাশক্তির অথর্বতা এবং অনুভূতিজ্ঞানের অবিশ্যম্ভাবী দুর্বলতার জন্ম দেয়। এর ফলে মাদকে অভ্যস্থ এ সমস্ত মানুষ কল্যাণের পরিবর্তে সমাজদেহে ব্যাপকভাবে দংশনের ঝড় বইয়ে দিতে থাকে। এসব বির্পযয় ছাড়াও মাদকের পিছনে ব্যয় করতে গিয়ে তারা ধনসম্পদকে ধংস করে দেয়, পরিবারে ভাংগন ধরায়। আর এসব শুরু হয় তরুণ বয়স থেকে। ফলে আপনারা আপনাদের সন্তানকে সবসময় নজরে রাখবেন।
বাল্যবিয়ের বিষয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা সমাজে অনেকেই রয়েছি যারা বয়স হওয়ার আগেই নিজের সন্তানকে বুঝা বা ভালো প্রাত্র দেখে বিয়ে দিয়ে দেই। যখন তারা একটি বয়সে পৌঁছায় তখন তাদের পারিবারিক কলহ সংসার ভেঙে যায়। আগে যেই মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে নিজের সংসারের বুঝা কমাতে চেয়েছিলেন তখন সেই মেয়ের ঘরেই সন্তান নিয়ে আপনার বাড়িতে চলে আসে। ফলে আপনি নিজেই নিজের ক্ষতি করছেন। এগুলো থেকে আমাদের সচেতন হতে হবে।
তিনি বসুন্ধরা শুভসংঘের বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা আন্তরিকভাবে বসুন্ধরা শুভসংঘকে ধন্যবাদ জানাই। উনারা আমাদেরকে কথাবলার জন্য এমন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুযোগ করে দিয়েছেন। আমরা আশা করবো ভবিষ্যতেও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে বসুন্ধরা শুভসংঘ কাজ করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম বলেন, বাংলাদেশের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ হালুয়াঘাটে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে একটি স্কুল করেছে। আমরা আশা করবো স্কুলটিতে পর্যায়ক্রমে শিশু শ্রেণি থেকে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাক্রম চালু হবে।
এ সময় অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা আপনাদের সন্তানদের প্রতি নজর রাখবেন। তারা কোথায় যাচ্ছে কার সঙ্গে মিশছে সেগুলো দেখবেন। সন্ধ্যার পর যেন বাড়ির বাইরে বেড় না হয় সে বিষয়ে লক্ষ রাখবেন। যদি ছোট বেলা থেকে আপনারা আপনার সন্তানদের দেখে রাখতে পারেন তাহলে তারা মাদক ও নেশা থেকে দূরে থাকবে।
বিডি প্রতিদিন/আরকে