কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হলো ছয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আঞ্চলিক মুট কোর্ট বা ছায়া আদালত প্রতিযোগিতা। মঙ্গলবার বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (বাইউস্ট) আইন বিভাগ এ আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে ছিল আদালতের পরিবেশ। বিচারকের আসনে শিক্ষক, আর বাদী-আসামি ও আইনজীবীর ভূমিকায় শিক্ষার্থীরা। গম্ভীর পরিবেশে যুক্তিতর্ক ও জেরা চলছে ঠিক যেন বাস্তব আদালতের মতো। কোথাও বাংলাদেশের আদালতের আবহ, কোথাও আবার ইউরোপীয় কোর্টের আদলে সাজানো দৃশ্য।
আইনি যুক্তি-তর্কের বিষয়বস্তু ছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা প্রসঙ্গ— এমনকি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের হামলার আইনি ভিত্তি নিয়েও আলোচনা হয়। দর্শক সারিতে থাকা শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এসব বিতর্ক।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নূর হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ. এস. এম. সায়েম আলী পাঠান এবং বিজ্ঞান ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রমা ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নায়ীম আলীমুল হায়দার।
বাইউস্ট ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী বলেন, এই প্রতিযোগিতা তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়েছে, চিন্তা ও যুক্তি উপস্থাপনের দক্ষতা বাড়িয়েছে।
আয়োজকদের মধ্যে প্রভাষক নাদিয়া ইসলাম নদী ও বিভাগীয় প্রধান ড. নায়ীম আলীমুল হায়দার জানান, আইনের শিক্ষার্থীদের যুক্তিতর্ক, গবেষণা ও বিচারিক প্রক্রিয়া বোঝার সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
তারা বলেন, আদালতের ব্যবহার বিধি ও সময়োপযোগী আইন চর্চা সম্পর্কে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের পথে আরও প্রস্তুত হয়ে উঠবে।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন