রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ এভাবে চলতে থাকলে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের’ মতো বড় সংকট দেখা দিতে পারে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, শুধু গত মাসেই প্রায় ২৫ হাজার মানুষ মারা গেছে, যাদের বেশিরভাগই সৈন্য।
ট্রাম্প বলেন, আমি চাই হত্যা-হামলা বন্ধ হোক। এত মৃত্যু আর সহ্য করা যায় না। আমরা যুদ্ধ থামাতে কঠোর চেষ্টা করছি। তার মতে, বড় শক্তিগুলো যদি চাপের খেলা চালিয়ে যায়, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে যেতে পারে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষের ওপরই ক্ষুব্ধ। কারণ, বারবার আলোচনা হলেও কোনো বাস্তব অগ্রগতি নেই। তিনি বলেন, “‘প্রেসিডেন্ট শুধু কথার জন্য বৈঠক চান না। তিনি ফল চান। তিনি চান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হোক।’
ট্রাম্প সম্প্রতি ইউরোপের নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের একটি টিম রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় আছে।
এদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তবে তিনি হতাশ যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় স্পষ্ট সম্মতি দিচ্ছেন না।
জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইউক্রেনের জনগণ চাইলে গণভোটের মাধ্যমে দোনেৎস্ক–লুহানস্ক (দোনবাস) অঞ্চল রাশিয়াকে দেওয়া হবে কি না তা নির্ধারণ করতে পারে। কিন্তু রাশিয়া এর আগেই শর্ত দিয়েছে—ইউক্রেনকে এসব পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধ সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে। এখন ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র কিনে দিচ্ছে প্রধানত ন্যাটো মিত্র দেশগুলো। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে আন্তর্জাতিক মহলে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল