চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলওয়ে স্টেশনের সামনের সড়ক থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অতিক্রম করে জিরো পয়েন্ট, কাটা পাহাড় ও শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা ‘বুদ্ধিজীবী হত্যার ইতিহাস অস্বীকার চলবে না’, ‘পাক হানাদার যোদ্ধা না—খুনি’, ‘৭১-এর টিক্কা খান, ২৫-এর শামীম খান’, ‘চবির চেয়ারে বসে বদরগিরি চলবে না’, ‘মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটি চবির মাটি’— এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিনের সঞ্চালনায় সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে উপ-উপাচার্য যে বক্তব্য দিয়েছেন তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই এবং তার নিঃশর্ত ক্ষমা ও পদত্যাগ দাবি করছি।’
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা বিভিন্ন ডায়েরি ও ঐতিহাসিক দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। যারা এই ইতিহাস অস্বীকার করতে চায়, তারা ১৯৭১ সালকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটিতে বসে অন্য কোনো দেশের তাবেদারি করা চলবে না। উপ-উপাচার্যের বক্তব্যের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অবমাননা করা হয়েছে।’
শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আল নোমান বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছেন। যারা ১৯৭১ সালের ইতিহাসকে বিকৃত করে বা অস্বীকার করতে চায়, তারা ছাত্রসমাজের কাছে নব্য রাজাকার হিসেবেই বিবেচিত হবে।’
চাকসুর এজিএস আয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, ‘উপ-উপাচার্য যে চেয়ারে বসে আছেন, তা জনগণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। ৭১ ও ২৪—কোনোটিই মুছে ফেলার সুযোগ নেই। তার বক্তব্য ছিল রাজনৈতিক এবং ইতিহাসবিরোধী। এজন্য তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং পদত্যাগ করতে হবে।’
উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার দুপুরে উপাচার্যের দপ্তরে আয়োজিত ‘মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ এবং একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডকে ‘অবান্তর’ বলে মন্তব্য করেন। এ মন্তব্য ঘিরেই বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
বিডি-প্রতিদিন/জামশেদ