আতশবাজি, পটকা ও ফানুস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ পরিবেশ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে অনুকরণীয় ভূমিকা রাখায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে থার্টি-ফার্স্ট নাইটসহ বিভিন্ন উৎসবে আতশবাজি ও ফানুস ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
রবিবার পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের হাতে সম্মাননা ও ক্রেস্ট তুলে দেন।
সম্মাননাপত্রে বলা হয়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংরক্ষণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আতশবাজি ও ফানুস ব্যবহারের ফলে বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, রাসায়নিক দূষণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি পাখি ও বন্যপ্রাণীর ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্য জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
এ প্রেক্ষাপটে পরিবেশ রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের জন্যও একটি নৈতিক ও পরিবেশবান্ধব নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। উপাচার্যের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়বদ্ধতা ও নৈতিক নেতৃত্বকে তুলে ধরে বলে সম্মাননাপত্রে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ বিষয়ক সেমিনার, র্যালি এবং ‘ক্লিন ক্যাম্পাস’, ‘গ্রীন ক্যাম্পাস’, ‘দূষণমুক্ত ক্যাম্পাস’ ও ‘পাখিবান্ধব ক্যাম্পাস’ শীর্ষক নানা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করছে।
পরিবেশবান্ধব এসব কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন আরবরি কালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। এ ছাড়া এস্টেট অফিস, পরিবেশ সংসদ, গ্রীন ফিউচার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের প্রধানদের সহযোগিতায় কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন