নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা আজীবন সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত ডিন, পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অনুষদ সদস্য এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এনএসইউ’র কোষাধ্যক্ষ ও উপ-উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক আবদুর রব খান স্বাগত বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে বিজয় দিবসের জানান।
তিনি বলেন, ‘বিজয় দিবস আমাদের জন্য একটি মহান ও গৌরবময় দিন, যা আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করি। এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে অনুপ্রেরণার প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের শুধু সাহসের শিক্ষাই দেয় না, বরং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণাও জোগায়।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের একক কৃতিত্ব নয়। কোনো রাজনৈতিক দলের ডাকে মানুষ এই যুদ্ধে যোগ দেয়নি। ন্যয়বিচার ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। এই যুদ্ধ ছিলো জনতার যুদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে আদর্শ নিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম, তার অনেক কিছুই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তবে আমাদের ছাত্রসমাজ চব্বিশের অভ্যুত্থানে যে বীরত্ব দেখিয়েছে, তা আবারও আমাদের দেশ নিয়ে ইতিবাচক হতে উদ্বুদ্ধ করে।’
বিশেষ অতিথি বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গৌরবময় দিন। অনেক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই দিনে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব, যেন তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশগঠনে অবদান রাখতে পারে।’
উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আমরা এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলেছি, যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারে। আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা, যারা ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশ যেখানেই কাজ করুক না কেন, বাংলাদেশের মর্যাদা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশগঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
অনুষ্ঠানের শেষে একটি মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে এনএসইউ সাংস্কৃতিক সংগঠন (এনএসইউএসএস)।
বিডি-প্রতিদিন/জামশেদ