বিজয় দিবসের দিনও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে ১৬ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় দিবসের আলোচনা সভা চলাকালে হট্টগোল ও অনুষ্ঠান বর্জনের ঘটনা ঘটে।
এর আগে ১৫ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ছাত্রদল ও বাম ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন। পরে রাত ৯টার দিকে তালা খুলে দেওয়া হয়। এ সময় প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম অবস্থান করছিলেন।
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে দুপুর পৌনে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় আয়োজিত আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান মঞ্চে উঠলে শাখা ছাত্রদল, চাকসুর এজিএস এবং হল সংসদে নির্বাচিত ছাত্রদলের অনুসারী ৯ জন ছাত্র প্রতিনিধি অনুষ্ঠান বর্জন করে বেরিয়ে যান।
এ সময় চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বক্তব্য দিতে গিয়ে আগের দিন ক্যাম্পাসে বহিরাগত বিএনপি নেতাকর্মীদের জড়ো হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন ক্ষুব্ধ হয়ে ভিপিকে মারতে উদ্যত হয়ে মঞ্চে ওঠার চেষ্টা করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, যাদের ক্যাম্পাসে বহিরাগত আনার সংস্কৃতি আছে, তারাই হট্টগোল করছে। আমরা সব ছাত্র সংগঠনের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
চাকসুর এজিএস আইয়ুব রহমান তৌফিক বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে উপ-উপাচার্য যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি এখনো ক্ষমা চাননি বা দুঃখ প্রকাশ করেননি। নৈতিকভাবে তার এ পদে থাকার কোনো অবস্থান নেই। এ কারণেই আমরা অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।
অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ১৯৭১ আমাদের ইতিহাস ও গর্বের জায়গা। তবে স্বাধীনতার পর নানা কারণে সব প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সেই অপূর্ণতার বহিঃপ্রকাশ আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি। এখন প্রয়োজন একাত্তরের চেতনা ও বর্তমান বাস্তবতাকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। ঐক্যের মাধ্যমেই আমরা দমন-পীড়নের অবসান ঘটাতে পেরেছি। ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল