ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে ‘প্রশাসন পোড়া ও বারবিকিউ সন্ধ্যা’ কর্মসূচি আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), হল সংসদ নেতৃবৃন্দ এবং একদল নারী শিক্ষার্থী।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে এ কর্মসূচির বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা।
সংবাদ সম্মেলনে হেমা চাকমা বলেন, আজগুবি ‘অশালীনতা’ প্রতিরোধের নামে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাত ১০টার পর মল চত্বরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের দেখা গেলে তাদের সেখান থেকে জোরপূর্বক চলে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞার কোনো লিখিত নীতিমালা নেই, কোনো গণবিজ্ঞপ্তি নেই এবং কোনো আইনি ভিত্তিও নেই। প্রশাসন বেআইনিভাবে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করছে। নিরাপত্তার নামে প্রশ্ন, জেরা ও হয়রানির ঘটনা বর্তমানে নিয়মিত বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
একই জায়গায় পুরুষ শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচল, অবস্থান ও আড্ডার সুযোগ রেখে নারী শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করাকে প্রশাসনের দ্বিমুখী আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই- সুরক্ষার অজুহাতে নারীদের স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার খর্ব করা নারীদের প্রতি কাঠামোগত বৈষম্য। যতদিন না এই বৈষম্য দূর করে একটি প্রকৃত নারীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে ওঠে, ততদিন আমরা প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই থাকবো।
নারীবান্ধব ক্যাম্পাসের দাবিতে কর্মসূচি আয়োজনের পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দেন। স্মারকলিপিতে উত্থাপিত পাঁচটি দাবি হলো-
বিশেষ নিরাপত্তার নামে নারীদের ওপর চলমান সব ধরনের হয়রানি ও বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ অবিলম্বে বন্ধ করা, টিএসসির অকেজো নারী টয়লেট দ্রুত সংস্কার করা এবং পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য ছাত্রী টয়লেট নিশ্চিত করা, পরিচয়পত্র জমা সাপেক্ষে অনাবাসিক ও ভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ সকল নারী শিক্ষার্থীদের যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল পুনর্গঠন করে দ্রুত কার্যকর করা এবং হলের আবাসিক ছাত্রীদের মা ও বোনকে ছাত্রীর পরিচয়পত্র জমা ও আবেদন সাপেক্ষে হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী, শামসুন্নাহার হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) কানিজ কুররাতুল আইন। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগ ও হলের নারী শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে একাধিক নারী শিক্ষার্থী সন্ধ্যার পর কেন্দ্রীয় মাঠে প্রবেশে বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলেন। বিকেল ৫টার পর পুরুষ শিক্ষার্থীদের মাঠে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও নারী শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগ জোরালো হয়। এর প্রতিবাদে ডাকসুর নেত্রী হেমা চাকমা ‘প্রশাসন পোড়া ও বারবিকিউ সন্ধ্যা’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ