স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করলেও খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় নাগরিক। তার দাবি, স্ত্রীকে হত্যা করলেও আদতে তিনি খুনি নন।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে নিজের স্ত্রীকে হত্যার কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন ৪২ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি। তবে তিনি দাবি করেছেন যে, এই ঘটনাটি পরিকল্পিত খুন বা মার্ডার ছিল না। গত বছরের ডিসেম্বরে সুপ্রিয়া ঠাকুর নামের ওই নারীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পর গত ১৪ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো অ্যাডিলেড ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হন বিক্রান্ত ঠাকুর।
আদালতের শুনানিতে নিজের আইনজীবীর পরামর্শ মেনে বিক্রান্ত জানান, তিনি অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুর দায় স্বীকার করতে রাজি আছেন কিন্তু খুনের অভিযোগে দোষী নন।
আইনি পরিভাষায় খুনের অভিযোগ সাধারণত পূর্বপরিকল্পিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধের ক্ষেত্রে আনা হয়। অন্যদিকে অনিচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর কারণ হলে তাকে ম্যানস্লটার হিসেবে গণ্য করা হয়।
গত ২১ ডিসেম্বর অ্যাডিলেডের উত্তরাঞ্চলীয় শহরতলির একটি বাড়িতে পুলিশ সুপ্রিয়াকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে। পুলিশ দ্রুত তাঁকে সিপিআর প্রদান করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর প্রথম শুনানির সময় বিক্রান্তের পক্ষ থেকে জামিনের কোনো আবেদন করা হয়নি। প্রসিকিউটররা ডিএনএ পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ১৬ সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন। আদালত আগামী এপ্রিল মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
এদিকে নিহত সুপ্রিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও তাঁর একমাত্র ছেলের সহায়তায় একটি তহবিল সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা। পরিচিতদের ভাষ্যমতে, সুপ্রিয়া একজন নিবেদিতপ্রাণ মা ছিলেন। নিজের ছেলের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করতেন। তিনি একজন নিবন্ধিত নার্স হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন যেন মানুষের সেবা করতে পারেন। তার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ছোট ছেলেটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে এবং তাদের সাজানো সংসার তছনছ হয়ে গেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল