আবাসন ভাতার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রেখেছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এসময় আন্দোলনরত ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এর আগে আবাসন ভাতার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে কলা ভবন, শহীদ সাজিদ ভবন ও বিজ্ঞান অনুষদের সামনে দিয়ে মিছিল করে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
এসময় তারা '২০ ব্যাচের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন; সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন', 'আমার বৃত্তি আমায় দে, নইলে জায়গা ছেড়ে দে', 'স্বৈরাচারি সিদ্ধান্ত, মানি না মানব না', 'বৈষম্যের সিদ্ধান্ত, মানি না মানবো না', 'বৃত্তি মোদের অধিকার, বৈষম্যের সাধ্য কার', '১,২,৩,৪, বৃত্তি মোদের অধিকার', 'বৃত্তি আমার অধিকার, না দেওয়ার সাধ্য কার?', '২০ ব্যাচ আন্দোলন করে, জকসু কী করে?', 'জকসু ও প্রশাসন-দুই দেহ এক মনসহ নানা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ছয় মাসের আবাসন ভাতা নির্ধারণ করে তা দ্বিতীয় কিস্তিতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক। এছাড়া নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের ক্ষেত্রে হলে সিট থাকা সত্ত্বেও এবং এমনকি আবেদন না করেও কিছু শিক্ষার্থীর নাম আবাসন ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ঘোষিত তালিকা সংশোধন করে চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই প্রথম কিস্তিতে সকল শিক্ষার্থীর আবাসন ভাতা পরিশোধ করতে হবে।
আন্দোলনরত ২০ ব্যাচের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, আবাসন ভাতা আমাদের সবার অধিকার। এখানে বৈষম্য কেন? হলে থাকা অনেক শিক্ষার্থী এবং আবেদন না করেও অনেকে আবাসন ভাতা পাচ্ছে, তাহলে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত থাকবে কেন?
ঢাকায় আসার পর নবীণ শিক্ষার্থীরা আবাসন ও আর্থিক সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগে। এসময় টিউশন পাওয়া অনেকের জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে আবাসন ভাতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আমাদের কিন্তু প্রশাসন আমাদের বঞ্চিত করে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবাসন ভাতার তালিকা প্রকাশ করে। এতে প্রথম তালিকায় ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মোট ৮ হাজার ৩৩০ জন এবং দ্বিতীয় তালিকায় আরও ১ হাজার ৯৮৯ জনসহ সর্বমোট ১০ হাজার ৩১৯ জন শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে আবাসন সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী ২০২৪-২৫ (২০ ব্যাচ) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের এ তালিকার প্রথম কিস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বিষয়টি দ্বিতীয় কিস্তিতে বিবেচনা করা হবে।
তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সব শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীরা- যারা আবাসন ও আর্থিক সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন, তারা এই তালিকার বাইরে থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত