বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ বলেছেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পুরোনো প্রতিষ্ঠান না হলেও সমাজে ইতোমধ্যে একটা অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তোমাদের গর্ব হওয়া উচিত।
ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, যারা জুলাইয়ের আন্দোলনে একটা বিশাল ভূমিকা রেখেছে, তোমরা তাদেরই একটা অংশ। তোমরা সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণটা তৈরি করেছ। আর তা হচ্ছে, শুঁয়োপোকার প্রজাপতি হয়ে ওঠার উদাহরণ। প্রজাপতি যেমন প্রজাপতি হওয়ার আগে শুঁয়োপোকা হিসেবে থাকে, উড়তে পারে না। তেমনি আমরাও শুঁয়োপোকার মতো ছিলাম উড়তে পারতাম না। তোমাদের কারণেই আমরা শুঁয়োপোকা থেকে প্রজাপতি হয়ে উঠতে পেরেছি।
রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় হলো সে স্থান, যেখানে তোমাদের মন ও মানসিকতা বিকশিত হবে। এখানেই তোমাদের প্রত্যাশাগুলোর বিকাশ ঘটবে। পাশাপাশি তোমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে, তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দেশ, পুরো জাতি। তোমাদেরকে সেই সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে যারা ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, তোমাদের আরও একটা কথা মনে রাখতে হবে, এ বয়সটা ছিটকে পড়ারও বয়স। এ বিষয়টায় তোমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে এবং সকল ইতিবাচক বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, তোমরা পারো না এমন কিছু নেই। তোমাদের মনে রাখতে হবে তোমরা কারা। জুলাইয়ে তোমরা যে পরিবর্তন এনেছ, তা এককথায় ‘ওয়ান্ডারফুল’। আমি এই পরিবর্তনকে প্রকৃতির এক অনন্য উদাহরণের সঙ্গে তুলনা করি।
অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যানে অনলাইনে যুক্ত হন। সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, এতদিন আপনারা বাবা-মায়ের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। এখন এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তজীবনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মুক্তজীবনে আপনাকে নিজেকে কন্ট্রোল করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভালো মানুষ হতে হবে এবং দৈনিক কোনো না কোনো ভালো কাজ করব। মানুষকে উপকার না করতে পারলেও যেন কোনো ক্ষতি না করি, এটা সবসময় মনে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দীন।
বিডি-প্রতিদিন/এমই