জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে হেনস্তা ও তার ক্যামেরা সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফুর রহমান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বিডিনিউজ২৪ ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
অভিযোগে বলা হয়, গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হিম উৎসব চলাকালে শহীদ মিনার এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন আরিফুর রহমান। এ সময় নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইমন, দর্শন বিভাগের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাহানুর রহমান সাঞ্জু, বাংলা বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান ইমন বাবুসহ পাঁচ–ছয়জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন।
আরিফুর রহমানের অভিযোগ, অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইমন জোরপূর্বক তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণ করা ফুটেজ দেখতে শুরু করেন। পরে ক্যামেরা নিতে গেলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার ক্যামেরা ও লেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে আবারও তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হয়রানি করা হয়। এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং সংবিধানে নিশ্চিত মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আরিফুর রহমান বলেন, একাধিকবার হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন তিনি। বর্তমানে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও আইডি ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুল হাসান ইমন বাবু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৪৮তম ও ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা চলছিল, তিনি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছিলেন। অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রবকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার শরিফুল হুদা, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম, আইবিএ-এর অধ্যাপক আইরীন আক্তার এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. আবু তালেব (সদস্যসচিব)। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুর রব বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন