ধর্ষণ, খুন, চাঁদাবাজি এবং কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষিকার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
সোমবার (৯ মার্চ) রাতে ইউটিএল এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদলিপি জানানো হয়।
প্রতিবাদলিপিতে ইউটিএল জানায়, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। একের পর এক ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, প্রকাশ্যে খুন, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যা এবং ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণু আচরণ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষক ও অপরাধীরা রাজনৈতিক পরিচয়কে নিজেদের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে, যা আইনের শাসনের জন্য বড় ধরনের হুমকি।
ইউটিএল উল্লেখ করে, সম্প্রতি সীতাকুণ্ডে মাত্র সাত বছর বয়সী এক শিশুকে দুর্গম ও জনশূন্য পাহাড়ে নিয়ে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। একইভাবে মাত্র চার বছর বয়সী আরেকটি শিশুকেও ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি সভ্য রাষ্ট্রে নারীদের ওপর এমন নৃশংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে সংগঠনটি উল্লেখ করে।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, দেশের মানুষ আজ বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, রাস্তাঘাট কিংবা কর্মস্থল, কোথাও নিজেদের নিরাপদ মনে করছে না। এমনকি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকল্যাণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে নিরাপত্তাহীনতার একটি দৃষ্টান্ত আখ্যা দিয়ে সংগঠনটি বলেছে, একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বা বিচারের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক–সাস্ট চ্যাপ্টার দেশের এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের নীরবতায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি দাবি জানিয়েছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সকল খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সংগঠনটি অবিলম্বে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল