বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এর একটি গবেষণা দল প্রফেসর ড. আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদান অর্জন করেছে। অনুদানটি প্রদান করা হয়েছে বাংলাদেশ ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফর ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (BIRDI)
কর্মসূচির আওতায়, যা স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (SICIP)-এর অংশ। কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং এতে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গত বছরের আগস্টে প্রকাশিত BIRDI সার্কুলারের প্রেক্ষিতে বিইউএফটি গবেষণা দল একটি এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (EOI) জমা দেয়। এ আহ্বানে সারা দেশ থেকে মোট ১৩২টি গবেষণা প্রস্তাব জমা পড়ে, যার মধ্যে কঠোর কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের মাধ্যমে মাত্র ১২টি প্রকল্প চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বিইউএফটির প্রকল্পটি স্থান পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান গবেষণা সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী শক্তির প্রমাণ।
নির্বাচিত প্রকল্পটির শিরোনাম “Sustainable Valorization of Cotton Waste into High-Value Cellulose-Based Products for Green Industrial Applications।” এই গবেষণার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ কটন বর্জ্যকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুনঃব্যবহার করে উচ্চমূল্যের পরিবেশবান্ধব উপকরণে রূপান্তর করা। ফ্যাব্রিক কাটিং স্ক্র্যাপ, স্পিনিং বর্জ্য ও কটন কনসহ সেলুলোজসমৃদ্ধ বিভিন্ন কটন বর্জ্য, যা সাধারণত কমমূল্যের কাজে ব্যবহৃত হয়, তা আধুনিক উপকরণবিজ্ঞানের মাধ্যমে মূল্যবান শিল্প উপকরণে রূপান্তর করা হবে। ১২ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে বিইউএফটির গবেষণা অবকাঠামোর মাধ্যমে এবং এতে শিল্প সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ডেনিম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান শাশা ডেনিম পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটি তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে উৎপন্ন কটন বর্জ্য সরবরাহ করবে এবং গবেষণার ফলাফল শিল্প পর্যায়ে পরীক্ষার সুযোগ দেবে।
গবেষণায় কটন বর্জ্য থেকে সেলুলোজ নিষ্কাশন ও পরিশোধনের মাধ্যমে সেলুলোজভিত্তিক উপাদান তৈরি করা হবে, যার সম্ভাব্য ব্যবহার রয়েছে বায়োডিগ্রেডেবল প্যাকেজিং, শিল্প আবরণ, কম্পোজিট উপকরণ, ফাংশনাল ফিল্ম এবং উন্নত টেক্সটাইল ফিনিশিং প্রযুক্তিতে। প্রকল্পের ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্জ্য সংগ্রহ ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ, সেলুলোজ নিষ্কাশন ও পরিশোধন, সেলুলোজ ডেরিভেটিভ সংশ্লেষণ, প্রোটোটাইপ উন্নয়ন, শিল্প পর্যায়ে পরীক্ষা এবং পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন।
গবেষণা শেষে শিল্পখাতে প্রযুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটি টেকনোলজি ট্রান্সফার প্যাকেজ (TTP) প্রস্তুত করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা সফল হলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে সার্কুলার ইকোনমি বাস্তবায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে, শিল্প বর্জ্য কমবে এবং আমদানিনির্ভর কাঁচামালের বিকল্প তৈরি হবে, যা পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রকল্প প্রধান প্রফেসর ড. আব্দুল জলিল বলেন, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে টেক্সটাইল বর্জ্যকে মূল্যবান উপকরণে রূপান্তর করা গেলে তা পরিবেশ সুরক্ষা ও শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক এই অনুদান অর্জন বিইউএফটির গবেষণা সক্ষমতার স্বীকৃতি এবং এটি দেশের টেক্সটাইল গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।