শান্তি কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়, এটি একটি অর্জনযোগ্য দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় প্রতিশ্রুতি। শিক্ষা, ন্যায়বিচার ও তরুণ নেতৃত্বকে শান্তির মূল ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি সংস্থা এইচডব্লিউপিএল-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “এইচডব্লিউপিএল পিস গভর্নেন্স ফোরাম: শান্তি বাংলাদেশ ইনিশিয়েটিভ” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সোমবার (১১ মে) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কে খান আইন অনুষদ মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
‘শান্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া, মানবতার দায়িত্ব পালন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ফোরামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, শান্তি শুধু যুদ্ধের অনুপস্থিতি নয়; এটি একটি সংস্কৃতি, যা শেখানো যায়, শেখা যায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়। ন্যায়বিচার, সমতা ও অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেই ইতিবাচক শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
তিনি বলেন, “শান্তির সূচনা হয় মানুষের মনে, আর সেই মন গঠনের সবচেয়ে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হলো বিশ্ববিদ্যালয়।” দেশের প্রায় দেড়শ পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি, সংলাপ ও দ্বন্দ্ব নিরসনের শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে ‘শান্তি ও সংঘাত গবেষণা’ কেন্দ্র স্থাপন এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ারও প্রস্তাব করেন।
জাতীয় পর্যায়ে শান্তি আইন প্রণয়ন, ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রতিরোধে আইনি কাঠামো তৈরি এবং বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের তরুণদের নিয়ে যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠনেরও সুপারিশ করেন তিনি।
রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও চিটাগং সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল মিথ্যা তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি, রোহিঙ্গা সংকট এবং তরুণদের মধ্যে উগ্রপন্থার বিস্তার বাংলাদেশের শান্তির পথে প্রধান বাধা।
তিনি বলেন, তরুণদের শান্তির স্থপতি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপের মাধ্যমে সামাজিক সংহতি জোরদার করতে হবে। তার মতে, শান্তিকে কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং নাগরিক নৈতিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে বৈশ্বিক শান্তির কাঠামো তুলে ধরে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন বিভিন্ন চুক্তি, মানবাধিকার মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তির নিয়মতান্ত্রিক ভিত্তি তৈরি করে। তবে কেন্দ্রীয় প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অভাব এবং রাষ্ট্রগুলোর আইন না মানার প্রবণতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা, সুশীল সমাজ ও এনজিওগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে আরও কার্যকর শান্তি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফোরামে আরও বক্তব্য দেন যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সহিদ উল্লাহ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ