হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। শনিবার দুপুর ১টার দিকে মহাসড়কের নতুন ব্রিজ এলাকায় বাস দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে অবরোধ করা হয়। এতে সড়কের দুই পাশে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
শ্রমিকরা জানান, গত ৫২ বছর ধরে হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার সড়কে ‘হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন’ পরিবহনের বাস চলাচল করছে। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের একটি পক্ষ ওই রুটে বাস চলাচলে বাধা দিয়ে আসছে। গত ১০ মে মৌলভীবাজারে বিরতিহীন বাস আটকে শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে ১২ মে থেকে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ সিলেটসহ জেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখে।
পরবর্তীতে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার প্রশাসনের উদ্যোগে কয়েক দফা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ জি কে গউছের নির্দেশনায় শুক্রবার সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে দুই জেলার বাস মালিক ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক চললেও কোনো ঐকমত্য ছাড়াই তা শেষ হয়।
শনিবার প্রশাসনের আশ্বাসে বাস চলাচল শুরু হলেও মৌলভীবাজারে আবারও বাস ও শ্রমিকদের আটকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জের নতুন ব্রিজ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে দুপুর আড়াইটার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিকরা।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের আশ্বাসে বাস চলাচল শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু বাস মৌলভীবাজারে পৌঁছানোর পর শ্রমিকদের মারধর ও বাস আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে হবিগঞ্জের শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। আপাতত অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও সমস্যা সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ