চট্টগ্রামে নানা আয়োজনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়েছে। রবিবার নগরীর পাহাড়তলী বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। এরপর আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন করা হয়।
ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর পর চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যেসব বধ্যভূমি এখনো অরক্ষিত অবস্থায় আছে আমরা সেগুলো সুরক্ষিত করব। আমরা সামনের নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছি। কারণ রাষ্ট্রীয় কিছু বাজেট খুবই দরকার। আমি যখনই কোনো একটা ডিপিপি রেডি করে মন্ত্রণালয় দিচ্ছি, সেটা কিন্তু হচ্ছে না। কারণ সেখানে বাজেট সংকট রয়েছে এবং গণতান্ত্রিক কোনো সরকার যদি না আসে কেউ বাইর থেকে এসে ইনভেস্টও করছে না। ইতিমধ্যে আমি অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছি এই শহরকে সুন্দর করার জন্য।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছিল। যে সকল মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীরা দেশের জন্য তাদের নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে আমাদের মুক্তির জন্য চেষ্টা করেছেন, তাদের কৃতিত্বকে সম্মানজনকভাবে স্মরণ করতে হবে। বুদ্ধিজীবীদের এই আত্মত্যাগ ও পরিশ্রম পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মোতাহার হোসেন, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম।
বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাবউদ্দিন আহমেদ, উত্তর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিলানী ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন।
দিবসটি উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবদান ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ডা. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, শাহ আলম, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মুবিন, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু প্রমুখ।
শ্রদ্ধা জানান অঙ্গীকার পরিচালক হাসান মুকুলের নেতৃত্বে নাজমা সাঈদ, ইমরান এমি, শফিউল বাশার শামু, নাহিদা আকতার নাজু, এসবি সুমি, মেহেদী হাসান, আবীর আহমেদ, ইমন চৌধুরী প্রমুখ।
এদিকে, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, নগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আজম, চকবাজার থানা আমির আহমদ খালেদুল আনোয়ার, কোতোয়ালি থানা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুজ্জাহের প্রমুখ।
বিডি প্রতিদিন/এমআই