চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের অবহেলায় গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে, এমন অভিযোগে হাসপাতালের চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
রবিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তারের আদালতে ভুক্তভোগী নারী নাসরিন আক্তার মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন-চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. সিরাজুন নূর, হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নুরুল হক, পরিচালক (মেডিকেল অ্যাফেয়ার্স) ডা. এ এফ এম আশরাফুল করিম ও ডেপুটি ডিরেক্টর (অ্যাডমিন-আইসিইউ) ডা. মো. আবু সাইদ চৌধুরী।
মামলার বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট রিগ্যান আচার্য্য বলেন, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হলে আদালত মামলার বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর মামলাটি ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী তারিখে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সকালে প্রসবব্যথা নিয়ে নাসরিন আক্তারকে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তার গর্ভকাল ছিল ৩৭ সপ্তাহ। আল্ট্রাসনোগ্রাফি অনুযায়ী গর্ভস্থ সন্তান সুস্থ ছিল। ভর্তির পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রোগীর স্বজনরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়-এমন কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, লেবার রুমে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখার ফলে রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে। পরে একজন সিনিয়র কনসালটেন্ট এসে পরিস্থিতি দেখে জরুরি অস্ত্রোপচারের নির্দেশ দেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশন করা হলে গর্ভস্থ সন্তান মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে মায়ের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, সময় মতো সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হলে শিশুটিকে বাঁচানো যেত। ঘটনার পরদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বরং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয় এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে বারবার অপেক্ষায় রাখা হয়।
বিডি প্রতিদিন/এমআই