ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সারাদেশে এই প্রথম আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বিষয়ক যৌথ মহড়া ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রামে। জেলার রাউজান উপজেলায় আয়োজিত এ যৌথ মহড়া ও মতবিনিময় সভায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা জানানো হয়।
সোমবার রাউজানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি বিশ্ববাসীও আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেব।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, এটি কোনো চেয়ারের পরিবর্তনও নয়। এটি হচ্ছে বাংলাদেশের আগামী ১০০ বছরের রূপরেখা। আগামী একশ বছর বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, এই দেশে আমরা কতটা নিরাপদ থাকব, দেশের প্রতিটি নাগরিক কতটা নিরাপদ থাকবে, আমাদের সন্তানরা এ দেশে ঠিকমতো বসবাস করতে পারবে কি না এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে কি না—এই আয়োজন তারই অংশ।
জেলা প্রশাসক বলেন, এর জন্য আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে। আমি একা কিংবা পুলিশ সুপার একা এই নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে পারবো না। এখানে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শুধু ভোটকেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করলেই হবে না, শুধু নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করলেও হবে না। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের আরও একটি দায়িত্ব রয়েছে। সমাজব্যবস্থা কেমন হবে, আপনার সন্তান কোন পরিবেশে বড় হবে—সে পরিকল্পনা করার দায়িত্বও আপনার।
তিনি আরও বলেন, আমরা একটি নিরাপদ রাষ্ট্র চাই। আমরা চাই না এই রাষ্ট্র থেকে আবার কেউ পালিয়ে যাক। আমরা চাই সবাই এই রাষ্ট্রে সুন্দরভাবে বসবাস করুক। এটি নিশ্চিত করতে হলে সবার মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন। সে জন্য একটি গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সবার মতামত দরকার। আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ চাই।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। এটি শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রতি সবার সম্মিলিত দায়বদ্ধতা।
জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করবে তারা কী ধরনের বাংলাদেশ চায়। ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আর রক্তপাত নয়— মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে চায়। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।
ভোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো স্বার্থের কাছে যেন কেউ নিজের বিবেক ও দায়িত্ববোধ বিক্রি না করেন। প্রশাসন কঠোর হতে চায় না, তবে কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করলে কঠোর হতে বাধ্য হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন। তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই রাউজানে ভোটগ্রহণের পরিবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং তথ্য যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। নির্বাচনকালীন সময়ে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ এবং রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম।
বিডি-প্রতিদিন/শআ