চট্টগ্রামে বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতির দামাল সন্তান ও জাতীয় বীরদের স্মরণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিজয়ের এই দিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা প্রতিষ্ঠান বীর শহীদদের গভীরভাবে স্মরণ করেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই নগরীর উত্তর কাট্টলীতে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে ৩১বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদর্শন করে। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রথমে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দীন এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হুমায়ন কবির এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।
চসিক মেয়র বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্যে দিয়ে এই চট্টগ্রাম থেকে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার মধ্যে দিয়ে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই দিনে আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়েছি।
জেলা প্রশাসনের বর্ণিল কুচকাওয়াজ
বিজয় দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরের স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় বর্ণিল কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কুচকাওয়াজে আনসার-ভিডিপি, নগরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বয়েজ স্কাউট, গার্লস গাইড ও বিএনসিসির সদস্যরা অংশহগ্রহণ করে।
সকালে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শুরু হওয়া কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকাল ৮টায় জেলা স্টেডিয়ামে প্যারেড ও কুচকাওয়াজ, সকাল সাড়ে ১১ টায় সার্কিট হাউজে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, বিকেল ৩টায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সিআরবি শিরীষ তলায় বিজয় মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা।
কুচকাওয়াজে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশকে সমৃদ্ধশালী দেশে উন্নত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার একটি অবাদ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বদ্ধপরিকর। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিজয় দিবস পালন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিজয় দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ৬ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ।
বিশ্ববিদ্যালয়র সহকারি রেজিস্ট্রার মো. আলাউদ্দিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্স ও প্যারা ক্লিনিক্যল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. অজয় দেব, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মেহেরুন্নিছা খানম, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. রহিম উল্ল্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক অর্থ মোহাম্মদ ইকরামুল হক খান, কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ডা. ময়নাল হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ রশীদ, সহকারী পরিচালক অর্থ মিছবাহ ইবনে হাকীমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।
পরে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টি টিম অংশগ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ খেলা উদ্বোধন করেন।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল