ফুটফুটে বাচ্চা। বয়স মাত্র তিন মাস। এই বয়সে থাকার কথা মায়ের বুকে। মাতৃস্নেহে মমতার পরশে। আদরের চাদরে আবৃত হয়ে। কিন্তু না। তা হল না। ভাগ্যের বড়ই নির্মম চিত্র। এই বয়সেই তার ঠাঁই হল সড়কে। তবে ঘটনাচক্রে অসুস্থ শিশুটির ঠাঁই হয় হাসপাতালের বেডে। এখন চলছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা।
তবে প্রশ্ন উঠছে, কী হবে শিশুটির। সুস্থ হলেও তার প্রকৃত অভিভাবকের সন্ধান কি মিলবে। কোথায় হবে তার পরবর্তী গন্তব্য। জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠ পার্কের দক্ষিণ পাশের গেইটের বাইরে কাঁথা মোড়ানো একটি শিশুকে নড়াচড়া করতে দেখেন নিরাপত্তাকর্মী আবদুল মালেক। তিনি শিশুটিকে কুড়িয়ে নিয়ে থানায় খবর দেন। পুলিশ শিশুটিকে নিয়ে যায় পাশ্ববর্তী মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে। তবে শিশুটির ‘অ্যাকোনড্রোপ্লাসিয়া’ নামের একটি জন্মগত রোগ আছে। তাছাড়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ শারীরিক নানা জটিলতাও আছে। তবে গত শুক্রবারের তুলনায় সে এখন আগের চেয়ে সুস্থ। বর্তমানে তাকে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটির চিকিৎসার সামগ্রিক দায়িত্ব নিয়েছে। তার দেখাশোনা করছেন হালিমা নামের এক মহিলা।
মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিশু তালুকদার বলেন, বাচ্চাটি এখন আগের তুলনায় সুস্থ। মুখে দুধ খাচ্ছে। আপাতত আমাদের লক্ষ্য তাকে সুস্থ করে তোলা। এরই মধ্যে অনেকে দত্তক নিতে আসতেছে। কিন্তু অসুস্থতার কথা শুনে ফিরে যাচ্ছেন। জানি না সর্বশেষ কি হয়। তিনি বলেন, শিশুটির ‘অ্যাকোনড্রোপ্লাসিয়া’ নামের একটি জন্মগত রোগ আছে। এটি একটি জেনেটিক অবস্থা, যা হাড়ের বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। ফলে এটি বামনত্বের সবচেয়ে সাধারণ কারণ, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তির হাত ও পা ছোট কিন্তু ধড় (ধড় হলো শরীরের মূল অংশ, যা মাথা, ঘাড়, হাত ও পা বাদ দিয়ে বুক, পেট ও কোমর পর্যন্ত অংশকে বোঝায়। একে শরীর বা দেহও বলা হয়। যা হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে ধারণ করে) স্বাভাবিক থাকে, এটি পিতামাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে আসতে পারে বা নতুন মিউটেশন হিসেবেও ঘটতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি, সুস্থ করে তুলতে।
মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ বলেন, শিশুটিকে ভর্তির পর তার অবস্থা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাকে হাসপাতালের পক্ষ থেকেই সামগ্রিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমরা মানবিকতার উৎকর্ষে শিশুটি সুস্থ হোক।
জানা যায়, এর আগেও চট্টগ্রামে এমন একটি নির্মম ঘটনা ঘটেছিল। গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মাজার গেট এলাকায় সড়কের পাশ থেকে দুই ভাই বোনকে উদ্ধার করেন স্থানীয় অটোরিকশাচালক মহিম উদ্দিন। এর মধ্যে ছিল সাড়ে তিন বছর বয়সী আয়েশা আক্তার ও ১৪ মাস বয়সী মোরশেদ। উদ্ধারের পর তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে গত ৫ জানুয়ারি চমেক হাসপাতালের এনআইসিইউতে ১৪ মাসের মোরশেদ মারা যান। অপর শিশুটি উদ্ধারকারী কাছে আছেন।
বিডি প্রতিদিন/এএম