শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও আরবিট্রেশন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মস্থলে যোগ দিতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রামের টাইগারপাস বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বিদ্যালয়ে যোগ দিতে গেলে তাঁকে সেখান থেকে বের করে দেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি ধাক্কা দিয়ে ওই শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন।
জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা মোজাম্মেল ও একই বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোজাম্মেলের স্ত্রী আমেনা বেগম ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। তবে মোজাম্মেলের দাবি, তাকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও আরবিট্রেশন কমিটির চিঠি পেয়ে তিনি রবিবার কর্মস্থলে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তবে পরিচালনা কমিটির দাবি মোজাম্মেল দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
বোর্ড সূত্র জানায়, গত বছরের এপ্রিলে মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দেন জেলা প্রশাসনের তৎকালীন সিনিয়র সহকারী কমিশনার রাকিবুল ইসলাম। প্রতিবেদনে মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে আনা ২৩টি অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে উল্লেখ করা হয়। আর্থিক দুর্নীতির বিস্তারিত তদন্ত করতে আর্থিক খাতের সংস্থা দিয়ে অডিটের সুপারিশ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ দাবি করেন, মোজাম্মেল ও তাঁর স্ত্রী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তাঁর (মোজাম্মেল) বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেছে। অডিট করেও তাঁর বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত ও অডিট রিপোর্ট থাকার পরও বোর্ড কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। রবিবার তিনি স্থানীয় লোকজন নিয়ে কর্মস্থলে আসলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করে।
যদিও অভিযোগের বিষয়ে মো. মোজাম্মেল হক গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যারা মব করেছিল তারাই আজকের ঘটনার সময় ছিল। তিনি বোর্ডের চিঠি পেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। কাজে যোগ দিতে না দেওয়ার বিষয়টি তিনি বোর্ডে জানাবেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব একেএম সামছু উদ্দিন আজাদকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল