চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইটারেজ (পণ্য পরিবহনকারী ছোট জাহাজ) সংকটে আমদানিপণ্য নিয়ে আসা মাদার ভেসেল বা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকা জাহাজের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে দেখা দিয়েছে জাহাজ-জটের আশঙ্কা।
বহির্নোঙরে দীর্ঘ হচ্ছে আমদানি পণ্যবোঝাই বড় জাহাজের সারি। বাড়ছে গড় অপেক্ষমাণ সময়। এতে উদ্বিগ্ন আমদানিকারকরা। অতিরিক্ত সময় বড় জাহাজের বন্দরে অবস্থানের কারণে বাড়ছে আমদানি-ব্যয়। যার প্রভাব পড়তে পারে রমজানের দ্রব্যমূল্যে। বর্তমানে রমজানকেন্দ্রিক পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্যবোঝাই শতাধিক মাদার ভেসেল বহির্নোঙরে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্য নিয়ে একসঙ্গে অনেক মাদার ভেসেলের আগমন, বেশ কয়েকটি লাইটারেজে যান্ত্রিক ত্রুটি, বিভিন্ন ঘাট ও নৌরুটে পণ্য নিয়ে লাইটারেজ দিনের পর দিন বসে থাকা, বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় লাইটারেজের মোংলা বন্দরমুখী হওয়াসহ নানা কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।
সূত্রমতে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা খাদ্যশস্য, সার, চিনি, সিমেন্ট ক্লিংকারসহ আমদানি পণ্যের ৭০-৭৫ শতাংশ (বাল্ক কোর্গো) খালাস হয় বহির্নোঙরে। বাকিগুলো হয় বন্দরের জেটিতে। মাদার ভেসেল বা বড় আকারের সমুদ্রগামী জাহাজ সাধারণত বহির্নোঙরে অবস্থান করে। এসব জাহাজ থেকে অভ্যন্তরীণ নৌরুটে চলাচলকারী ছোট জাহাজে পণ্য বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বন্দরের বহির্নোঙরে আমদানি পণ্যের ১২১টি জাহাজ ছিল। এর মধ্যে ৭৫টিতে খালাসের কাজ চলছে। আর ৪৯টি খালাস কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, রমজান সামনে রেখে প্রচুর খাদ্যপণ্য আমদানি হওয়ায় মাদার ভেসেলের চাপ বেড়ে গেছে। পণ্য খালাস করার মতো প্রয়োজনীয়সংখ্যক লাইটারেজ পাওয়া যাচ্ছে না।
লাইটারেজ জাহাজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল (ডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকা শতাধিক মাদার ভেসেলে প্রতিদিন তিন-চারটি করে ধরলেও তিন-চারশ লাইটারেজের চাহিদা আছে। সেখানে নানা কারণে দিনে এক শটিও পাওয়া যাচ্ছে না।
ডব্লিউটিসির সহকারী পরিচালক টিংকু পাল জানান, প্রতিষ্ঠানটির অধীনে প্রায় ১ হাজার ২০০ লাইটারেজ থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মেরামতের জন্য ডকে রয়েছে এক শটির মতো। পণ্য নিয়ে বিভিন্ন ঘাট ও নৌপথে আছে পাঁচ শ থেকে ছয় শটি। এ ছাড়া মোংলা বন্দরে আছে দুই শটির মতো। মোংলায় ভাড়া তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায় বলে সেখানে চলে যাচ্ছে অনেক লাইটারেজ।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ