ধর্মঘট স্থগিতের পর অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শ্রমিক কর্মচারীরা কাজে যোগ দেওয়ায় পণ্য ডেলিভারি, লোডিং-আনলোডিংসহ সব ধরনের কাজ শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘বন্দর এখন সচল। পুরোদমে কাজকর্ম চলছে’।
বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল(এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের ঘোষণাসহ চার দফা দাবিতে গতকাল সকাল থেকেই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোণা দেয় আন্দোলনকারীরা। তবে পাঁচটি সমস্যা সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহীম খোকন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ও বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী বর্তমান সরকারের আমলে চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার পর নির্বাচন এবং রমজানের পণ্য রিলিজ করার স্বার্থে ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচটি সমস্যা সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
পাঁচটি সমস্যা হচ্ছে, পাঁচ কর্মচারীকে গ্রেফতার ও হয়রানিমূলক মামলা, ১৫ কর্মচারীকে বিভিন্ন বন্দরে হয়রানিমূলক বদলি, আন্দোলনরত কর্মচারীদের নানাবিধ শাস্তি, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বাসা বরাদ্দ বাতিল এবং ১৬ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা।
জানা গেছে, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে বদলিকৃত স্থানে যোগ না দেওয়ায় ১৬ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, ইতোপূর্বে বদলিকৃতদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে তিনি তাদের নাম জানাতে পারেননি।
আমদানি-রপ্তানিতে বিপুল ক্ষতি
এদিকে গত রবিবারের ধর্মঘট এবং একই দাবিতে এর আগের সপ্তাহে টানা ছয় দিনের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা দেখা দেওয়ায় দেশের আমদানি-রপ্তানিতে বিপুল ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, বন্দর একদিন বন্ধ থাকলে তার ধাক্কা লাগে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। আন্দোলনের কারণে দুই দফায় বন্দরের কার্যক্রম অচল থাকায় ব্যবসায়ীদের কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমদানি পণ্য খালাস করা যায়নি, একইভাবে জাহাজে তোলা যায়নি রপ্তানি পণ্য। ক্ষতিটা শেষ পর্যন্ত গিয়ে ভোক্তার ঘাড়ে গিয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, রমজাননির্ভর ২০-২৫ শতাংশ পণ্য এখনও জাহাজ থেকে খালাস হয়নি। এগুলো সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে পারবে কিনা-তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বহির্বিশ্বে দেশের ইমেজ সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে বিজিএমইএ পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, শত শত কনটেইনার আটকা পড়েছে। সময়মতো বিদেশি ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না। বিদেশি ক্রেতারা নতুন করে অর্ডার দিতে চিন্তা-ভাবনা করছেন। এ অবস্থায় তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা এক প্রকার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
গত রবিবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ধর্মঘটে ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/কামাল