চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১১৫ প্রার্থীর মধ্যে ৭৫ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন, যা এই জেলার মোট প্রার্থীর ৬৫.২২ শতাংশ। এসব আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা থাকলেও দুইটি আসনে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন ইসলামী ফ্রন্ট ও একটিতে খেলাফতে মজলিশের প্রার্থীরা।
চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহম্মদ বশির আহমেদ জানান, সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রত্যেক প্রার্থীকে ট্রেজারি চালান বা পেঅর্ডারের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হয়। যদি কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের নূন্যতম ১২ শতাংশ ভোট না পান তাহলে ওই প্রার্থীর জামানত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়।
চট্টগ্রামের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬ আসনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি কোনো আসনে জামানত হারায়নি। তবে একটি আসনে জামায়াত প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এছাড়া গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বিএসপি, লেবার পার্টি, জাতীয় পার্টি, গণফোরাম, জাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী), ইনসানিয়াত বিপ্লব, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাসদ, এনডিএম, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশর সব প্রার্থী ও সকল স্বতন্ত্র প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে চট্টগ্রাম-১ আসনে জাসদের একেএম আবু ইউছুপ ২৫৮, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী ২,১০৮, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম ৭৮০, বিএমএল এর শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী ২৬৯ ও জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাত হোসেন ১,৬৫৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
একইভাবে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএসপির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ ১২,৪১৫, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ জুলফিকার আলী মান্নান ২,১৬৯, জনতার দলের গোলাম নওশের আলী ৩৮০, স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আকতার ২৭০, আহমদ কবির ২৬২, গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান ২৫১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা ৩০৮ ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন ৫,১৪৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৪ আসনে কমিউনিস্ট পার্টির মো. মছিউদদৌলা, নেজামে ইসলাম পার্টির জাকারিয়া খালেদ, গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম, বিএসপির শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের দিদারুল মাওলা, গণঅধিকার পরিষদের এটিএম পারভেজ ও ইসলামী ফ্রন্টের সিরাজুদ্দৌলা।
চট্টগ্রাম-৫ আসনে ইসলামিক ফ্রন্টের রফিকুল ইসলাম ১২,২২৫, ইসলামি আন্দোলনের মতি উল্লাহ নূরী ১,৩১৯, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমাম উদ্দিন রিয়াদ ৮৫৭ ও লেবার পার্টির আলা উদ্দিন ২০৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দিন তালুকদার ৮২৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৭ আসনের ইসলামী আন্দোলনের আবদুল্লাহ আল হারুণ ১,৩০৭, কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরণ বড়–য়া ৪৪১, এবি পার্টির মো. আবদুর রহমান ১৫৮, গণঅধিকার পরিষদের বেলাল উদ্দীন ১২৯ ও জাতীয় পার্টির মেহেদী রাসেদ ৪১১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ এমদাদুল হক ৮৮৪, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম ১,২০৮ ভোট, এনসিপির জোবায়ারুল হাসান আরিফ ৩,৩৪৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে ইসলামি ফ্রন্টের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ ৪,১১০, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ ১,০৪০, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুস শুক্কুর ৯৪১, বাসদ (মার্কসবাদী) শফি উদ্দিন কবির ৪৯৪, জেএসডির’র আবদুল মোমেন চৌধুরী ১২৮ ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন ১১২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরমান আলী, বাসদ (মার্কসবাদী) আসমা আক্তার, ইসলামিক ফ্রন্টের লিয়াকত আলী, জাতীয় এমদাদ হোসানই চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের সাবিনা খাতুন, লেবার পার্টির ওসমান গনি ও ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলামের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১১ আসনে জাতীয় পার্টির আবু তাহের ১,০০৪, গণফোরামের উজ্জল ভৌমিক ৩০৭, বাসদ (মার্কসবাদী) দীপা মজুমদার, ২৩১, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ আবু তাহের ৫,১২৭, গণঅধিকার পরিষদের মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন ১০৪, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর ভ‚ঁইয়া ১৭৮, ইনসানিয়াত বিপ্লবের আজিজ মিয়া ২১০, বাসদের নিজামুল হক আল কাদেরী ১২০ ও ইসলামী আন্দোলনের মো. নুর উদ্দিন ২,৫৫৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১২ আসনে এলডিপির এম এয়াকুব আলী ১১৮, ইসলামী আন্দোলনের এমএম বেলাল নুর ৯০১, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী ৭৩২, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন ২৪৩, ইনসানিয়াত বিপ্লবের আবু তালেব হেলালী ৯২৯ ও জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম ২১,৭০৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনে জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী ৪৪০, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা ১৯১, এনডিএম’র মোহাম্মদ এমরান ২০৪, গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ১৬৮ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লবের এইচ এম ইলিয়াস ১৪৯, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ১,৫৩৯, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ বাদশা মিয়া ২৯৩, স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুল হক চৌধুরী ৩,৬৩০ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী ১,১৬৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১৫ আসনে তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ২,৯০৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ইসলামিক ফ্রন্টের আব্দুল মালেক ৮৪৪, বিএমএল’র এহছানুল হক ১০৫, গণঅধিকার পরিষদের আরিফুল হক ২৪৩ ও ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ রুহুল্লাহ ৪,০৫৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এএম